নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রয়েছে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ। এজন্য রাজ্যের চার আধিকারিক ও এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে সাসপেন্ড এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। সোমবার তাঁদের শাস্তি সুনিশ্চিত করে কমিশনকে চিঠি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল মুখ্যসচিবকে। তবে কমিশনের কঠোর শাস্তির নিদান নবান্ন মানেনি। উল্টে, ইসিআইয়ের নির্দেশমতো পদক্ষেপ নিলে আধিকারিকদের মনোবল ধাক্কা খাবে দাবি করে কমিশনকে সোমবার চিঠি দিয়েছে রাজ্য। কিন্তু রাজ্যের পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট ইসিআই মুখ্যসচিবকে সরাসরি দিল্লি তলব করল। বুধবার বিকেল ৫টায় সোজা ইসিআই দপ্তরে গিয়ে তাঁকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সন্ধু ও বিবেক যোশির কাছে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে।
দিল্লি গিয়ে কমিশনের প্রশ্নের উত্তর দিতে অবশ্য আপত্তি নেই নবান্নের। এই ইস্যুতে রাজ্যের কোনও আধিকারিকের শাস্তি বরদাস্ত করা হবে না। আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওইসঙ্গে কমিশনকে পাঠানো সোমবারের চিঠিতেও রাজ্য জানিয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে জেলায় নিযুক্ত আধিকারিকরা অধীনস্থ কর্মীদের নিজেদের কাজের দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। ওইসঙ্গে কঠোর শাস্তি, প্রশাসনিক তথা নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ ব্যাহত করবে বলেও দাবি নবান্নের। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের এই মতাদর্শই সরাসরি কমিশনের শীর্ষস্তরের সম্মুখে নবান্ন তুলে ধরবে।
অন্যদিকে, ‘বিতর্কিত’ দুই আধিকারিকের কার্যকলাপের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করল নবান্ন। দ্রুত রিপোর্ট জমা দেবে তারা। এক আধিকারিক ও এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে নির্বাচনী কাজকর্ম থেকে অব্যাহতি দিলেও বাকি তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি রাজ্য। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার পথে হেঁটেছে নবান্ন। তাই এই কমিটির রিপোর্ট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মত প্রশাসনিক মহলের।