Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

দীপু দাস হত্যা: উন্মত্ত জনতার সঙ্গে হাত মেলান কারখানার সহকর্মীরাও

একটা ফোন। সঠিক সময়ে মাত্র একবার কারখানা কর্তৃপক্ষ ফোন করলেই উন্মত্ত জনতার হাত থেকে বেঁচে যেতেন দীপুচন্দ্র দাস। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয় তাঁকে।

দীপু দাস হত্যা: উন্মত্ত জনতার সঙ্গে হাত মেলান কারখানার সহকর্মীরাও
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: একটা ফোন। সঠিক সময়ে মাত্র একবার কারখানা কর্তৃপক্ষ ফোন করলেই উন্মত্ত জনতার হাত থেকে বেঁচে যেতেন দীপুচন্দ্র দাস। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয় তাঁকে। এর পরেই দীপুকে কার্যত ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয় কারখানা থেকে। তাঁকে উন্মত্ত জনতার হাতে তুলে দেন কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ। তারপর ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে খুন করে তাঁর দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই নারকীয় ঘটনায় শামিল ছিল তাঁর সহকর্মীরাও। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার ১২ জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দীপুর সহকর্মীরাও। দীপুর দাদা অপুচন্দ্র দাস বলেন, সন্ত্রাসীরা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মেরেছে তাঁর ভাইকে। 

Advertisement

র‌্যাব জানিয়েছে, দীপুর উস্কানিমূলক মন্তব্যের কোনও প্রমাণ মেলেনি। তদন্তে নেমে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন র‌্যাব ও পুলিশ আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সেদিন কেউই দীপুকে উস্কানিমূলক কোনও কথা বলতে শোনেননি। অধিকাংশই জানিয়েছেন, তাঁরা অন্যদের মুখে বিষয়টি শুনেছিলেন। র‌্যাব সূত্রে খবর, দীপুর হত্যাকাণ্ড কোনও আচমকা ঘটনা নয়। ইস্তফা দিতে বাধ্য করা থেকে উন্মত্ত জনতার হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া—গোটা বিষয়টির নেপথ্যে ছিল দীর্ঘ পরিকল্পনা। র‌্যাবের এক কমান্ডার নইমুল হাসান জানান, গোলমাল শুরু হয়েছিল কারখানার ভিতরেই। বিকেল চারটে নাগাদ ফ্যাক্টরির ফ্লোর-ইন-চার্জ দীপুকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে জনতার হাতে তুলে দেন।
যদিও ঢাকার সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি স্টার’ সূত্রে খবর, গোলমালের মাত্রা বেড়ে যায় কারখানার শিফট বদলের সময়। তখন কারখানার গেটে হাজির হয়েছিলেন কর্মীরা। গোলমালের খবর পেয়ে হাজির হন স্থানীয়রাও। রাত ৮টা ৪৫ নাগাদ উত্তেজিত জনতা কারখানার ছোটো গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে সিকিওরিটি রুম থেকে দীপুকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। গণধোলাইয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দীপুর। এরপর দেহটি গাছের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 
দীপু হত্যার বিচারের দাবিতে সরব অপু দাস বলেন, ‘আমার ভাই দু’বছর ধরে কোয়ালিটি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিল। আমার ভাইকে কী কারণে মারল জানি না। ওরা বলছে, দীপু ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছে। কিন্তু তার কোনও প্রমাণ নেই। যদি এমন কিছু বলে থাকে, অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে আইনের মাধ্যমে বিচার হতে পারত। কিন্তু নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। যে সন্ত্রাসীরা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মেরেছে, তাদের বিচার চাই।’ এদিন নিহতের বাড়িতে এসে তাঁর স্ত্রী মেগনা রানিকে চাকরির আশ্বাস দেন জেলাশাসক সাইফুর রহমান।
এরইমধ্যে বাংলাদেশে আবারও আক্রান্ত সংখ্যালঘু হিন্দু। শনিবার গোবিন্দ বিশ্বাস নামে এক রিক্সাচালককে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে জামাতের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, হাতে লাল সুতো থাকায় গণপিটুনির শিকার হন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ