Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এজরা স্ট্রিটের গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন, ছাই কোটি টাকার সামগ্রী, দমকলের ২৪টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে কালো ধোঁয়া। সেই সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা। পটকা ফাটার মতো শব্দও হচ্ছে ঘনঘন।

এজরা স্ট্রিটের গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন, ছাই কোটি টাকার সামগ্রী, দমকলের ২৪টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে কালো ধোঁয়া। সেই সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা। পটকা ফাটার মতো শব্দও হচ্ছে ঘনঘন। নিমেষে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ল একের পর এক দোকানে। দোকানদাররা চিৎকার করছেন, ‘সব শেষ হয়ে গেল! তাড়াতাড়ি জল নিয়ে আয়...!’

Advertisement

শনিবারের কাকভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল মধ্য কলকাতার এজরা স্ট্রিট। আলোর বাজার বলে পরিচিত এই এলাকার একটি বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের গোডাউনে প্রথম আগুন লাগে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ২৪টি ইঞ্জিন। প্রায় ছ’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন দমকল কর্মীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও এই অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা বলে মানতে নারাজ গোডাউন মালিক প্রমোদ সিং। ব্যবসায়িক আক্রোশকেই তিনি দায়ী করছেন। তাঁর দাবি, প্রায় কোটি টাকার বৈদ্যুতিন সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। লালবাজার জানিয়েছে, দোকানের মালিক কারও বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলে তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে পাশাপাশি অনেকেই এই গোডাউনটি বেআইনি বলে দাবি করেছেন। সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও কলকাতা পুরসভা।
এদিন ভোর ৫টা নাগাদ গোডাউনের দোতলায় আগুন লাগে। প্রথমে স্থানীয় লোকজনই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা খুব বেশি ছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন আসে। 
বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম প্রচুর পরিমাণে মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাপক শব্দে ফাটতে শুরু করে বহু সামগ্রী। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে উল্টোদিকের একটি দশতলা বিল্ডিংয়ে। সেখানেও বৈদ্যুতিন সামগ্রী এবং এসি থাকায় বহুতলের ছাদ পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে যায়। তখন একাধিক সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। কিন্তু বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের গোডাউনে গ্যাস সিলিন্ডার এল কোথা থেকে? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দমকল সূত্রে খবর, আগুনের ভয়াবহতা বুঝে আরও ১৮টি ইঞ্জিন আনা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু।
দমকল ও পুলিশ সূত্রে খবর, ছোটো-বড়ো মিলিয়ে প্রায় ৩০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে গোডাউনে প্রথম আগুন লেগেছিল, সেটির মালিক প্রমোদ সিং কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, কয়েক কোটি টাকার সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। তাঁর আরও দাবি, এক দোকানমালিক দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দিতেন। তা না করলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ প্রমোদের। তিনি এই ঘটনা নিয়ে এফআইআর করবেন বলে জানান। ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মাও। তিনি বলেন, ‘আগুন আশপাশের বিল্ডিংয়ে সেভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। কোনও হতাহতের খবর নেই। বেআইনি কিছু থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শুক্রবার রাতে দোকানের এসি বন্ধ ছিল বলে জানা গেলেও শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনও কারণে আগুন লেগেছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোডাউনের একাংশ বেআইনি বলে যে অভিযোগ উঠছে, তা নস্যাৎ করে দিয়েছেন প্রমোদ। মেয়র বলেন, ‘কোনও জায়গা বেআইনি থাকলে তা ভেঙে 
দেওয়া হবে।’ ছবি: অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ