Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআর শুনানিতে এবার তলব দেবকেও! তালিকায় রয়েছেন ক্রিকেটার সামি, এক বিডিও

এবার নির্বাচন কমিশনের শুনানির মুখে পড়তে চলেছেন দেব! এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ-অভিনেতা সহ তাঁর গোটা পরিবার।

এসআইআর শুনানিতে এবার তলব দেবকেও! তালিকায় রয়েছেন ক্রিকেটার সামি, এক বিডিও
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার নির্বাচন কমিশনের শুনানির মুখে পড়তে চলেছেন দেব! এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ-অভিনেতা সহ তাঁর গোটা পরিবার। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এমনটাই খবর। অন্যদিকে, এদিনই ওই কাটজুনগর স্কুলেই সোমবার জাতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ সামিকেও ডেকেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু খেলার জন্য বাংলার বাইরে থাকায় তিনি আসতে পারেননি। এছাড়াও, সাউথ সিটি আবাসনের বাসিন্দা দুই অভিনেতা-অভিনেত্রীও এদিন কাটজুনগর স্কুলেই হিয়ারিংয়ের জন্য গিয়েছিলেন। পাশাপাশি, ৯২ বছর বয়সি এক বৃদ্ধ শুনানি কেন্দ্রে আসা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশন যেখানে জানিয়ে দিয়েছে, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের শুনানি কেন্দ্রে আসতে হবে না, তারপরেও কেন আসতে হল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, অভিনেতা দেব সহ তাঁর পরিবারের চারজনকেই আগামী ১১ জানুয়ারি হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে। সাউথ সিটি মল, আবাসনের পাশ দিয়ে ঢুকে পোদ্দারনগর বাজার পেরিয়েই কাটজুনগর স্কুল। সেখানেই দেবের শুনানি হওয়ার কথা। অন্যদিকে, সোমবার সকাল ১১টায় সাউথ সিটি আবাসনের পিছনে কাটজুনগর স্কুলে এসআইআর শুনানিতে আসেন অভিনেত্রী লাবনী সরকার ও অভিনেতা কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়। কৌশিক ও লাবনী, দু’জনেই সাউথ সিটি আবাসনের বাসিন্দা। তাঁরা রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের ২৫৮ বুথের ভোটার। ওই কাটজুনগর স্কুলেই এদিন জাতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ সামিকেও ডেকেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তিনি রাজকোটে খেলছেন, তাই অন্যদিন আসবেন বলেছেন নির্বাচন কমিশনকে।
ওই স্কুলে গিয়ে দেখা মেলে ৯২ বছরের বৃদ্ধ উৎপলেন্দু সেনগুপ্তকে। তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে হিয়ারিং সেন্টারে এসেছেন। সেখানেই ক্ষোভ উগরে দেন তাঁর পরিবার। জানা গিয়েছে, তাঁর সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যে ঠিকানায় তাঁর ভোটার কার্ড, সেখানে নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে বলে তাঁরা অন্যত্র ভাড়া থাকেন। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়েছে যতই বয়স হোক না কেন যেহেতু তিনি তাঁর বাড়িতে থাকছেন না, অন্যত্র বসবাস করছেন, তাই সমস্ত প্রমাণপত্র সহ তাঁকে শুনানি কেন্দ্রে এসেই অংশ নিতে হবে। তাঁর ভাড়াবাড়ির ঠিকানায় শুনানি হবে না। তিনি নিজের বাড়িতে থাকলে বাড়িতেই যেতেন নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা। কমিশনের এমন অদ্ভুত যুক্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। স্থানীয় ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মৌসুমি দাস বলেন, দেবের মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বদেরকেও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকেও শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। বয়স্ক মানুষদেরও চূড়ান্ত হেনস্তা করা হচ্ছে। কমিশন বলেছিল, ৮৫ বছর বয়স হয়ে গেলে কাউকেই হিয়ারিং সেন্টারে আসতে হবে না। তারপরেও অদ্ভুত সমস্ত যুক্তি দিয়ে বয়স্ক লোকজনদের শুনানি কেন্দ্রে টেনে আনা হচ্ছে। এটা মানুষকে নির্যাতন করা ছাড়া কিছুই না।
অন্যদিকে, এসআইআরের শুনানিতে হাজির হতে হয়েছে এক বিডিও’কেও। সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে একই লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন কালিম্পং জেলার লাভার বিডিও ভারতীচিক বড়াইক। যদিও এই ব্যাপারে প্রশাসনিক আধিকারিকরা কোনও কথা বলতে চান না।

সম্পর্কিত সংবাদ