Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সুপ্রিম নির্দেশের পরও নাম বাদের কারণ জানাচ্ছে না কমিশন, ক্ষুব্ধ ‘ডিলিটেড’রা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালে ভোটারের নাম বাদের কারণ জানাতে ব্যর্থ কমিশন। আর তা নিয়ে রীতিমতো শঙ্কায় ভুগছেন তালিকা থেকে বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ ভোটার।

সুপ্রিম নির্দেশের পরও নাম বাদের কারণ জানাচ্ছে না কমিশন, ক্ষুব্ধ ‘ডিলিটেড’রা
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালে ভোটারের নাম বাদের কারণ জানাতে ব্যর্থ কমিশন। আর তা নিয়ে রীতিমতো শঙ্কায় ভুগছেন তালিকা থেকে বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ ভোটার। এখনও পুরোদমে কাজ না শুরু করলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই দু’টি আবেদনের শুনানি করেছেন ট্রাইবুনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। সেখানে বিচারপতি বারবার নাম বাদের কারণ জানতে চাওয়া সত্ত্বেও কমিশন তা জানাতে পারেনি। 

Advertisement

প্রথম পর্বে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় নাম বাদের কারণ জানিয়েছিল কমিশন। তাও ব্যক্তিগতভাবে ভোটারের কাছে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ওই পর্বের বাদ পড়া তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত বা অন্যত্র অন্তর্ভুক্ত ভোটারের সংখ্যা প্রকাশ করা হয় মাত্র। কিন্তু পরবর্তীতে চূড়ান্ত তালিকা বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের সময় কেন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে? এর উত্তর কখনোই জানায়নি কমিশন। সেই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, চিরকালের জন্য কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না! তালিকা থেকে কেন নাম বাদ গেল, ভোটারকে তা জানাতেই হবে। কিন্তু তারপরও ট্রাইবুনালের প্রথম শুনানিতেই নাম বাদের কারণ জানাতে পারেনি কমিশন। 
এদিনই রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠনের প্রক্রিয়া আরও এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিচারপতিদের সহায়কদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। কিন্তু বিতর্ক শুরু হয়েছে এসআইআর ট্রাইবুনালের প্রথম রায় থেকেই। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মহতাব শেখের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছিল। সেই কারণে কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী হয়েও মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছিলেন না তিনি। প্রথমে হাইকোর্ট ও পরবর্তীতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শেষ পর্যন্ত প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমার আগেই মহতাব শেখের আবেদনের নিষ্পত্তি করতে ট্রাইবুনালকে নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। সেই মতো সল্টলেকের বিজন ভবনে মহতাবের আবেদনের শুনানি করেন বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। 
শুনানির শুরুতেই মহতাবের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সন্তানের জন্ম শংসাপত্রে তাঁর নাম ছিল মহতাব শেখ। তা সত্ত্বেও তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপরই কমিশনের আইনজীবী দিব্যা মুরুগেসেনের কাছে বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম জানতে চান, নথি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা বিচারক ঠিক কী কারণে আবেদনকারীর নাম বাতিলের উল্লেখ করেছেন? কিন্তু এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেনি কমিশনের আইনজীবী। তিনি প্রযুক্তিগত কারণের যুক্ত খাড়া করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। শেষে অবশ্য যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখে মহতাবের পক্ষেই রায় দেন তিনি। 
কিন্তু ঠিক কী কারণে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও নাম বাদের কারণ জানাতে ব্যর্থ কমিশন? আইনি মহলের ব্যাখ্যা, একটি অপরীক্ষিত এআই পাওয়ার্ড সফটওয়্যার দিয়ে সবটা খাড়া করায় এখন কমিশনের পক্ষে আর নাম বাদের কারণ জানানোটা কার্যত অসম্ভব। প্রথম শুনানিতেই কমিশনের এহেন আচরণে রীতিমতো ক্ষোভ বাড়ছে ‘ডিলিটেড ভোটারদের’। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ