Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলি জেলায় ঘন কুয়াশার দাপট, আলুর নাবিধসা রোগের আতঙ্ক কৃষকদের

হুগলি জেলাজুড়ে আচমকা কুয়াশার দাপট বেড়েছে। উত্তরের একাধিক জেলায় কুয়াশা ঝরা বৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হুগলিতে আলুচাষের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হুগলি জেলায় ঘন কুয়াশার দাপট, আলুর নাবিধসা রোগের আতঙ্ক কৃষকদের
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলি জেলাজুড়ে আচমকা কুয়াশার দাপট বেড়েছে। উত্তরের একাধিক জেলায় কুয়াশা ঝরা বৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হুগলিতে আলুচাষের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কুয়াশার দাপট বাড়লেই আলু গাছে নাবিধসা রোগ হয়। ছত্রাকঘটিত এই রোগ আলুচাষের ব্যাপক ক্ষতি করে। হুগলিতে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি দেখে অভিজ্ঞ আলুচাষি থেকে কৃষি বিশেষজ্ঞদের অনেকেই আলুচাষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে, প্রতিরোধ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে দ্রুত ফাঙ্গিসাইড ছড়ানো উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে কুয়াশার দাপটে আলুচাষি মহলে উদ্বেগের সঙ্গে বেড়েছে জটিলতাও। প্রসঙ্গত, হুগলিতে আলুর ফলন বরাবরই ভালো হয়। এই জেলায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে এবারও আলু চাষ হয়েছে।

Advertisement

বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে অধ্যাপক আশিস চক্রবর্তী বলেন, আমরা হুগলি জেলাকে সতর্ক করেছি। বর্তমানে আবহাওয়ার যে পরিস্থিতি, তাতে নাবিধসা নামক ছত্রাকঘটিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত খুবই সতর্ক থাকা দরকার। নাহলে আলুচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নাবিধসা রুখতে ম্যানকোজেব বা ক্লোরোথ্যালোনিল ২ বা ২.৫ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে নিয়ে স্প্রে করা দরকার। তাতে রোগ প্রতিরোধ হবে। আর যেখানে রোগ দেখা দিয়েছে, সেখানে অন্য ওষুধ দিতে হবে। স্থানীয়স্তরে কৃষিদপ্তর পরামর্শ দিতে পারে। আমাদের সাহায্য চাইলে আমরাও তা করতে পারি। হুগলি জেলা কৃষিদপ্তরের দাবি, জেলায় বর্তমানে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ২২ ডিগ্রি ও ১২ ডিগ্রির কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। তাই খুব একটা আতঙ্কের কিছু নেই। অবশ্য বেসরকারিভাবে দাবি করা হয়েছে, হুগলিতে গত তিনদিনে ব্যাপক ঠান্ডা পড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ বা তারও নীচে নেমে গিয়েছে। সঙ্গে রয়েছে কুয়াশার দাপট। 
হুগলি জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, হুগলি জেলায় আলু অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। ফলে আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। হুগলিতে আলু গাছ এখনও খুব বড় হয়নি। সেকারণে কুয়াশা বা কুয়াশা ঝরা বৃষ্টির তেমন প্রভাব পড়বে না। তবুও আমরা সতর্ক রয়েছি। জেলায় কোথাও নাবিধসার খোঁজ মেলেনি। কৃষকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সমন্বয় রক্ষা করা হচ্ছে। 
২০২৫ সালে বারবার আলুর চড়া দর নিয়ে নাগরিকদের বিচলিত হতে হয়েছে। হুগলির মতো উচ্চ ফলনশীল জেলায় আলুচাষের ক্ষতি হলে স্বভাবতই জোগান কমবে এবং দাম চড়বে। সবচেয়ে বড় কথা, বিশেষজ্ঞদের দাবি, নাবিধসা রোগ হওয়ার আগেই রুখে দেওয়া জরুরি। যেভাবে ঘন কুয়াশা হচ্ছে, তাতে নাবিধসা হওয়া অসম্ভব নয়। ফলে, আবহাওয়ার কারণে আলুচাষের ভবিষ্যৎ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ