নিউ ইয়র্ক: সোমবার। সন্ধ্যা ৬ টা ৫৯ মিনিট। সেনেটের পোডিয়ামে উঠলেন নিউজার্সির ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা করি বুকার। মঞ্চে উঠেই বলেছিলেন, ঘণ্টা, মিনিটের বেড়াজালে আটকে থাকবেন না। শরীর যতক্ষণ সঙ্গ দেবে, ততক্ষণ বক্তৃতা চালিয়ে যাবেন। কথার খেলাপ করেননি প্রাক্তন ফুটবলার। কড়া ভাষায় আক্রণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। ৫৫ বছরের সেনেটর বুকার বক্তব্য শেষ করলেন পরদিন। ২৫ ঘণ্টা পর। ঘড়ির কাঁটায় তখন মঙ্গলবার সন্ধ্যা আটটা ৫ মিনিট। দলের সহযোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানিয়ে হাসি মুখে নেমে এলেন। তাঁর এই বক্তৃতা ভেঙে দিল দীর্ঘ প্রায় সাত দশকের রেকর্ড। এর আগে ১৯৫৭ সালে নাগরিক অধিকার আইন নিয়ে রিপাবলিকান স্ট্রম থারমন্ড ২৪ ঘন্টা ১৮ মিনিট ধরে ভাষণ দিয়েছিলেন। এতদিন সেটাই ছিল মার্কিন সেনেটে দীর্ঘতম বক্তৃতা। মঙ্গলবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন বুকার।
সোমবার বক্তব্যের শুরু থেকেই ট্রাম্পকে নিশানা করেন এই ডেমোক্র্যাট সেনেটার। ট্রাম্পকে বিঁধে বুকার বলেন, আমাদের দেশ একেবারেই স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে না। আমেরিকার গণতন্ত্র এখন বিপন্ন। দেশের মানুষও ঝুঁকির সম্মুখীন। তাই বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। এই অবস্থায় আমাদের সকলকে একত্র হয়ে লড়তে হবে। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে কাটছাঁট থেকে শুরু করে মাস্কের দপ্তরের সুপারিশে কর্মী ছাঁটাই—এমনই বিভিন্ন ইস্যুতে প্রেসিডেন্টকে নিশানা করেছেন বুকার। সরব হয়েছেন ট্রাম্প জমানায় বর্ণবিদ্বেষ, ভোটাধিকার, আর্থিক বৈষম্যের মতো বিষয়েও।
তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা কিছুটা ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁদের ফের চাঙ্গা করতে সাধারণ মানুষের স্বার্থবাহী ইস্যুগুলিকেই হাতিয়ার করছে বিরোধী শিবির। বুকারের মতো সেনেটররা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছেন, তাঁরা লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ছেন না। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবেন। বুকারের কথাতেও সেই প্রত্যয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। বলেন, ‘আমরা গলা কাঁপতে পারে। কিন্তু, আমি আরও সরব হব।’ হাউসের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস সহযোদ্ধার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।