Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি, না মিললে রান্নার গ্যাস দেবে অন্য সংস্থা!

রান্নার গ্যাস ডেলিভারি নিয়ে গৃহস্থের ঝক্কির যেন শেষ নেই! অনেক সময় গ্যাস বুকিংয়ের পর দিন দু’য়েক কেটে গেলেও আসে না সিলিন্ডার।

২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি, না মিললে রান্নার গ্যাস দেবে অন্য সংস্থা!
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: রান্নার গ্যাস ডেলিভারি নিয়ে গৃহস্থের ঝক্কির যেন শেষ নেই! অনেক সময় গ্যাস বুকিংয়ের পর দিন দু’য়েক কেটে গেলেও আসে না সিলিন্ডার। ঠেলায় পড়ে কেউ ইনডাকশন কুকার বের করে, কেউ রান্নাবান্না বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। এই সমস্যা থেকে গ্রাহকদের রেহাই দিতে আসরে নামছে কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা ‘পেট্রলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রেগুলেটরি বোর্ড’। বুকিংয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্যাস সিলিন্ডার হেঁশেলে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে চাইছে তারা। সম্প্রতি তারা একটি খসড়াপত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যদি কোনও গ্যাস সংস্থার ডিস্ট্রিবিউটর তার গ্রাহককে ২৪ ঘণ্টার ম঩ধ্যে পরিষেবা না দিতে পারে, তাহলে অন্য কোনও ডিস্ট্রিবিউটর সিলিন্ডারের জোগান দিতে পারবে। এক্ষেত্রে গ্রাহক কোন সংস্থার আওতায়, তা গুরুত্বপূর্ণ হবে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনও ইন্ডেন গ্রাহক বুকিংয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি না পেলে নিকটবর্তী এইচপি বা ভারত পেট্রলিয়ামের ডিস্ট্রিবিউটরই তা দিতে পারবে। এই খসড়ার উপর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। তাঁদের পরামর্শের ভিত্তিতে বাস্তব সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে সমাধানের উপায় খোঁজা হবে। তারপর ‘পাইলট প্রকল্প’ চালু হবে দেশের কিছু অংশে। সেখানে সাফল্য মিললে দেশজুড়ে চালু হবে নয়া নিয়ম। তবে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক বা এলপিজি সংস্থাগুলির এখনও কোনও ‘সেন্ট্রালাইজড ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’ নেই। প্রস্তাবিত পরিষেবা চালু করতে গেলে এই ব্যবস্থাও প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তারা। 

Advertisement

রেগুলেটরি বোর্ডের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে বছরে গড়ে ১৭ লক্ষ অভিযোগ জমা হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র সময়ে সিলিন্ডার ডেলিভারি না হওয়ার অভিযোগই ইন্ডিয়ান অয়েলে ৫৮ শতাংশ, এইচপি-তে ৪৭ শতাংশ এবং বিপি-তে ৪৯ শতাংশ। বর্তমানে গ্যাস ডেলিভারির নির্ধারিত সময় ধরা হয় ৪৮ ঘণ্টা। তবে এসব বিষয়ে গ্রাহকের সচেতনতা কম। এই সময়ের মধ্যে ডেলিভারি না হলে বিকল্প কী, তাও গ্রাহকের অজানা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সিলিন্ডারের পর্যাপ্ত স্টক না থাকা, পরিবহণ সংক্রান্ত সমস্যা, দুর্যোগ বা অন্য কোনও কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিলিন্ডার ডেলিভারি দেওয়া যায়নি। অথচ গ্রাহকের কাছাকাছি অন্য কোনও সংস্থার গুদামে যথেষ্ট ‘স্টক’ আছে। সেক্ষেত্রে গ্রাহককে তারাই সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে পারবে। ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের বক্তব্য, গ্রাহকদের আগের মতো এতটা অপেক্ষা করতে হয় না এখন। দিন দু’য়েকের মধ্যেই পেয়ে যান। এমনকি, পুজোর সময়ও কলকাতার কিছু অঞ্চলে বুকিংয়ের দিনেই সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ