পুনে: শহরের অভিজাত আবাসন। সেখানেই ফ্ল্যাটে ঢুকে এক তরুণীকে অচৈতন্য করে ধর্ষণ। শুধু তাই নয়, নির্যাতিতার ফোনে সেলফিও তোলে অভিযুক্ত। ছবির নীচে লিখে রেখে যায়, ‘আমি আবার আসব’। মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের এমনই ঘটনায় আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। প্রশ্ন উঠেছে, অভিজাত আবাসনেও মহিলাদের সুরক্ষা কোথায়? ইতিমধ্যেই অবশ্য অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। কোন্ধাওয়া এলাকার ওই আবাসনের ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন নির্যাতিতা। সেই সময় এক ডেলিভারি এজেন্ট আসে। দরজা খুলেই তরুণী জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি কিছু অর্ডার করেননি। কিন্তু ডেলিভারি এজেন্ট তা মানতে চায়নি। সে ২২ বছরের ওই তরুণীকে সইয়ের জন্য কলম আনতে বলে। দরজা খোলা রেখেই ভিতরে যান তরুণী। সেই সুযোগেই ফ্ল্যাটে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় অভিযুক্ত। তারপর সে এমন কিছু একটা স্প্রে করে যাতে তরুণী অচৈতন্য হয়ে পড়েন। যখন জ্ঞান ফেরে তখন ঘড়িতে সাড়ে ৮টা। তরুণী বুঝতে পারেন যে, তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। তারপর মোবাইল হাতে নিয়েই দেখতে পান, অভিযুক্তর একটা সেলফি। তার নীচে লেখা — ‘আমি ফের আসব’। সঙ্গে হুঁশিয়ারি, ঘটনার কথা কাউকে বললে ফল ভালো হবে না। তবে সময় নষ্ট না করে তখনই ওই তরুণী পুলিসের দ্বারস্থ হন।
ডিসিপি (জোন ৫) রাজকুমার সিন্ধে বলেন, নির্যাতিতা তরুণী এক তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর ভাই বর্তমানে শহরের বাইরে রয়েছেন। ঘটনার তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। মনে করা হচ্ছে, ওই তরুণী যে বাড়িতে একা রয়েছেন, সে ব্যাপারে অভিযুক্ত আগে থেকেই জানত। সে ক্ষেত্রে বেশ কয়েকদিন ধরে তরুণীর উপর নজর রাখা হয়েছিল বলে ধারণা তদন্তকারীদের।
ডিসিপি সিন্ধে জানান, এই মামলায় অপরাধ দমন শাখা ও জোনাল পুলিসের দশটি দল গঠন করে অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। তাতেই মেলে সাফল্য। এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা সহ বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কোন সংস্থার ডেলিভারি এজেন্ট হিসেবে ওই যুবক এসছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। এছাড়া এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাঁরা বলছেন, পুনের অন্যতম প্রথম সারির আবাসন চত্বরে এহেন ঘটনা সত্যিই আতঙ্কের বিষয়।