নয়াদিল্লি: ‘মৃত্যু জীবনের সবচেয়ে সুন্দর পর্ব।’ সুইসাইড নোটে এমনই লিখে আত্মঘাতী হলেন যুবক। হিলিয়াম গ্যাস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। দিল্লির একটি ভাড়াবাড়ি থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিস। ধীরজ কাঁসাল নামে ২৫ বছরের ওই তরুণ পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। গুরুগ্রামের একটি সংস্থার কর্মী ছিলেন তিনি।
পুলিস জানিয়েছে, গত ২০ জুলাই আটদিনের জন্য দিল্লির ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন ধীরজ। গত সোমবারই ঘরটি ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময় মতো ঘর খালি না করায় না ফ্ল্যাটের মালিক তাঁকে ডাকতে আসেন। তখনই ঘরের ভিতর থেকে দুর্গন্ধ পান তিনি। তড়িঘড়ি পুলিসের খবর দেন ফ্ল্যাটের মালিক। দরজা ভেঙে দেখা যায়, বিছানায় পড়ে নিথর ধীরজ। গোটা মুখ একটি প্লাস্টিকে ঢাকা। মুখের ভিতর রয়েছে পাইপ। সেটির অপরপ্রান্ত লাগানো একটি সিলিন্ডারে। ওই সিলিন্ডার হিলিয়াম গ্যাসের। পুলিস জানিয়েছে, অনলাইনে হিলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডারের খোঁজ করেছিলেন ধীরজ। তারপর গাজিয়াবাদের এক সরবরাহকারীর কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে কিনেছিলেন গ্যাস সিলিন্ডারটি। এরপরই ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য দুঃখ করবেন না। আমার কোনও দায়িত্ব নেই। তাই আত্মহত্যা ভুল নয়।’ নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি তিনি। নোটে তিনি লিখেছেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমি যাঁদের জীবনে পেয়েছি, সকলেই আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছেন। তাই পুলিস ও সরকারের কাছে অনুরোধ, কাউকে বিরক্ত করবেন না।’
ধীরজ জানিয়েছেন, দিদার মৃত্যুর পর থেকে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। বাড়ির বাইরে বেরতেও ভালো লাগতো না। নোটে একাধিকবার নিজেকে ‘অযোগ্য ও পরাজিত’ বলে উল্লেখও করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘পৃথিবীতে আর জন্ম নিতে চাই না। কারও সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক নেই।’ তাঁর মৃত্যুর পর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করার অনুরোধও করেছেন তিনি। পাশাপাশি আর্জি জানিয়েছেন, সঞ্চিত অর্থ যেন কোনও অনাথ আশ্রম বা বৃদ্ধাশ্রমে দেওয়া হয়। ফেসবুক পোস্টের পাশাপাশি একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে পুলিস। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন ধীরজ।