ওয়াশিংটন: পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গিয়েছে দু’মাসেরও বেশি সময়। এখনও অধরা হামলাকারী চার জঙ্গি। এরই মধ্যে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন কোয়াড গ্রুপের সদস্য আমেরিকা, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রীরা। এই সন্ত্রাসবাদী হামলার নেপথ্যে থাকা অভিযুক্তদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে কোয়াড। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য দেশগুলিকে এব্যাপারে সহযোগিতা করার আর্জি জানিয়েছে এই সংগঠন। যদিও এই যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তানের নাম বা মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়নি।
চলতি বছরের শেষ পর্বে ভারতে আয়োজিত হতে চলেছে কোয়াড সম্মেলন। তার আগে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে কোয়াড গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক বসে। সেখানে গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার কড়া নিন্দা করেন তাঁরা। পাশাপাশি, সীমান্তপারের সন্ত্রাস নিয়েও সরব হন চার বিদেশমন্ত্রী—এস জয়শঙ্কর (ভারত), মার্ক রুবিও (আমেরিকা), পেনি ওয়ং (অস্ট্রেলিয়া) ও তাকেশি আইওয়া (জাপান)। যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার নেপথ্যে থাকা অপরাধী, সংগঠক এবং আর্থিক মদতদাতাদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সমস্ত সদস্য দেশকে এই বিষয়ে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি পহেলগাঁওয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁরা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনাও করেছেন কোয়াডের সদস্যেরা।
কোয়াড বৈঠকে ফের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সবর হন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বেরই উচিত কোনওরকম সহনশীলতা না দেখানো। সন্ত্রাসে যারা মদত দেয় ও যারা সন্ত্রাসের ফলে ভুক্তভোগী, তাদের কোনও অবস্থাতেই একই দৃষ্টিতে দেখা চলবে না। সন্ত্রাসবাদ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করার অধিকার ভারতের আছে। প্রয়োজনে আমরা সেই অধিকার প্রয়োগও করব। আমাদের আশা, কোয়াডের বাকি সদস্যরাও বিষয়টি বুঝবে।