Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে জেড প্লাস নিরাপত্তা, বদল সিপি পদেও

হামলার জের। নিরাপত্তা বাড়ল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার। তাঁকে জেড-প্লাস ক্যাটিগরির সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে জেড প্লাস নিরাপত্তা, বদল সিপি পদেও
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হামলার জের। নিরাপত্তা বাড়ল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার। তাঁকে জেড-প্লাস ক্যাটিগরির সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। একইসঙ্গে হামলার ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল দিল্লির পুলিস কমিশনার। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। যদিও প্রত্যাশিতভাবেই তাতে বুধবারের ঘটনার উল্লেখ করা হয়নি। দিল্লি পুলিসের নতুন কমিশনার হয়েছেন ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস অফিসার সতীশ গোলচা। তিনি শশীভূষণ কুমার সিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। শশীভূষণ দিল্লি পুলিসের হোম গার্ডসের ডিরেক্টর জেনারেল পদ সামলানোর পাশাপাশি কমিশনারের দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার প্রেক্ষিতে যেমন পুলিস কমিশনার বদল হয়েছে, তেমনই ওই পদে একজন ‘স্থায়ী’ কর্তাকেও নিয়োগ করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এদিন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার সঙ্গে দেখা করেন দিল্লির বিজেপি সাংসদরা।

Advertisement

বুধবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার সরকারি বাসভবনে ঢুকে তাঁকে নিগ্রহ করে এক যুবক। সেই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ফাঁক থাকায় মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলা হয়েছে বলে মানতে চাননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রা। বরং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিস কর্মীদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, এখানে কোনও নিরাপত্তার গাফিলতি হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিস কর্মীরা দক্ষতার সঙ্গে যাবতীয় কাজ করেছেন। মুহূর্তের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে পালাতে পারেনি। জনপ্রতিনিধিরা জনতার দরবার করলে নিরাপত্তা কর্মীদের উপর নির্দেশই থাকে, তাঁরা যেন কোনও সাধারণ মানুষকে না আটকান। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যদিও জনতার দরবার বন্ধ করছেন না দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। তা বরাবরের মতোই চলবে। এদিন তাঁর সরকারি বাসভবন এবং সংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার অবস্থানও পরিবর্তন করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিসের পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং আইবি। রাজকোট পুলিসের সহযোগিতায় তদন্ত চালানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক দিল্লিতে যেখানে যেখানে গিয়েছিল, সর্বত্রই তাকে নিয়ে যাওয়া হবে। কী কারণে সে ওইসব জায়গায় গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে। 
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জেরায় অভিযুক্ত যুবক বারবার দাবি করেছে, রাস্তার সারমেয়দের শেল্টার হোমে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি সরকার। তা নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিল সে। রাজকোটেও রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ানো গবাদি পশুর ভালোমন্দ নিয়ে আন্দোলন করে সে জেলে গিয়েছে। এমনকী রামমন্দির উদ্বোধনের পর এলাকার বাঁদরদের উপর পর্যটকরা কোনও অত্যাচার করছে কি না, তা ‘খতিয়ে’ দেখতে সে অযোধ্যাতেও গিয়েছিল। অভিযুক্তের যাবতীয় দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ