Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৬০ লক্ষ নাম নিয়ে টালবাহানা, ২৮শে নয়, ফের পিছোচ্ছে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ?

খাতায়-কলমে আগামী কাল, অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এই অল্প সময়ে কি কাজ শেষ করা সম্ভব?

৬০ লক্ষ নাম নিয়ে টালবাহানা, ২৮শে নয়, ফের পিছোচ্ছে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ?
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাতায়-কলমে আগামী কাল, অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এই অল্প সময়ে কি কাজ শেষ করা সম্ভব? সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ, অন্তত ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি নিষ্পত্তির কাজ বাকি। আর তাই বড়োসড় প্রশ্নচিহ্ন পড়ে গিয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ নিয়ে। সেদিনই এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। নির্ধারিত সময়ে নথি যাচাই ও তার নিষ্পত্তি শেষ না হলে, দিনক্ষণ পিছিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই বলেই বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। সেক্ষেত্রে ফের সময় চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   

Advertisement

কমিশন সূত্রে খবর, এখনও জেলাশাসক স্তরে ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৩ জন ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ বাকি। এছাড়াও রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৫ লক্ষ ভোটারের নথি জেলাশাসকরা যাচাই করে দিলেও, ইআরওরা তা নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারননি। পাশাপাশি ৩০ লক্ষ নথি যাচাই করে ফের ইআরওদের কাছে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। জানা গিয়েছে, এর ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নথির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বাকি। ঠিক এই কারণেই শনিবারের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সিইও জানিয়েছেন, নথি নিষ্পত্তির কাজের গোটাটাই ইআরওদের উপর নির্ভর করছে। ২১ তারিখ নথি নিষ্পত্তির ডেডলাইন। তা পিছিয়ে গেলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রকাশের দিনও পিছোতে পারে। কমিশনের কাছে ফের সময় চাওয়া হবে। 
এদিকে, চূড়ান্ত তালিকা থেকে আরও প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে চলেছে বলে খবর। সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ এমনিতেই শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭ লক্ষ ভোটার। এছাড়াও, ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ভোটারকে আগেই শুনানির নোটিস দেওয়া যায়নি। তার উপর এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ ভোটারের নথি গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিবেচিত হয়েছে। আরও উদ্বেগের কারণ হল, শুনানির দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের ভুলের কারণে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ভোটার নথি জমা করলেও তা সময় মতো আপলোড করা হয়নি। এইসব ভোটারের নামও তালিকায় থাকা নিয়ে সংশয় দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে, যে তিনজন মাইক্রো অবজার্ভারকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর। এই দৃষ্টান্তকে সামনে রেখেই কর্মরত সমস্ত মাইক্রো অবজার্ভারদের ফের একবার কমিশন চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কাজে গাফিলতি হলে কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ