Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষাক্ত মদে ৪২ জনের মৃত্যুতে যুক্তরাই নেতা, তৃণমূল-পদ্মের পদাধিকারী, সাজা হয়নি ১০ বছর

১০ বছর আগে ময়নায় বিষমদকাণ্ডে অভিযুক্তরাই বর্তমানে তৃণমূল ও বিজেপির সম্পদ। ভোট বৈতরণী পার করতে দুই দলেরই বাজি বিষমদকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ডরা। ময়না ব্লকের বাকচা, গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতে হানাহানির ঘটনায় এরাই সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

বিষাক্ত মদে ৪২ জনের মৃত্যুতে যুক্তরাই নেতা, তৃণমূল-পদ্মের পদাধিকারী, সাজা হয়নি ১০ বছর
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, ময়না: ১০ বছর আগে ময়নায় বিষমদকাণ্ডে অভিযুক্তরাই বর্তমানে তৃণমূল ও বিজেপির সম্পদ। ভোট বৈতরণী পার করতে দুই দলেরই বাজি বিষমদকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ডরা। ময়না ব্লকের বাকচা, গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতে হানাহানির ঘটনায় এরাই সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। ২০১৫ সালে বিষমদকাণ্ডে ময়না এবং ভগবানপুর-১ ব্লকে মোট ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ময়না থানা এলাকাতেই মারা যান ২৫ জন। ওই ঘটনায় শুধু পূর্ব মেদিনীপুরে নয়, গোটা রাজ্যে হইচই পড়ে গিয়েছিল। ক্ষোভ, বিক্ষোভ, অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুনের ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। চোলাই তৈরির মূল পান্ডা দুলাল বিষয়ী এবং প্রধান সাপ্লায়ার মানিক রুইদাস সহ মোট ১৩ জন ধরা পড়ে। ৪৩ মাস জেল খাটার পর মানিক বাদে সকলেই জামিন পায়। মানিক এখনও জেলবন্দি। বাকিরা জামিন পাওয়ার পর নিজের নিজের এলাকায় সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ময়না থানার পেটুয়ার মোড় থেকে ৫০০ মিটার দূরে কালিকাদাঁড়ি গ্রাম। নৈছনপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই গ্রামেই বিষমদকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত দুলাল বিষয়ীর বাড়ি। ঢালাই রাস্তার ধারে একতলা পাকাবাড়ি। এই মুহূর্তে দুলাল কালিকাদাঁড়ি বুথের তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি হিসাব রক্ষকের কাজ করেন। তাঁর খুড়তুতো দাদা বাবলু বিষয়ী বুথ সভাপতি। দুলাল বলেন, বিষমদকাণ্ড অতীত। সেসব ভুলে এখন সামনের দিকে এগতে চাই। পুকুরে মাছ ধরার কাজ করি। সেইসঙ্গে পার্টির কাজকর্মও দেখভাল করি। এই বুথে আমার দাদা তৃণমূলের বুথ সভাপতি। আমি হিসাব রক্ষক পদে আছি। এই মুহূর্তে গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন কলাবেড়িয়া গ্রামের দীপক মাইতি বিষমদকাণ্ডে ৪৩ মাস জেল খেটেছেন। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর এলাকায় ফিরে তিনি এখন এলাকার বিজেপির নেতা। ১০ বছর ধরে জেলবন্দি মানিক রুইদাসের থেকে চোলাই সংগ্রহ করে বিভিন্ন জায়গায় ডেলিভারি দেওয়ার অভিযোগ ছিল দীপকের বিরুদ্ধে। সেই দীপক এখন বিজেপিকে ভোট বৈতরণী পার করার মূল কান্ডারি। ২০২৩ সালে কলাবেড়িয়া বুথে বিজেপির নবকুমার সাঁতরার কাছে পরাজিত হন তৃণমূলের তৎকালীন গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুজিত ভৌমিক। নবকুমারের জয়ের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ায় দীপক এখন বুথ কমিটির সহ সভাপতি। বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতও বিজেপির দখলে। সেই বাকচার অধীন আড়ংকিয়ারানা গ্রামের বুদ্ধদেব কর বিষমদকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়ে জেল খেটেছেন। জেল থেকে বেরনোর পরই বুদ্ধদেব আড়ংকিয়ারানা গ্রামের বিজেপির নেতা। তাঁর বাবা সুকুমার কর বিজেপির বুথ সভাপতি। ছেলে বুথ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Advertisement

একসঙ্গে ৪৩ জনের প্রাণ হারানোর ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে যারা জেল খেটেছে তারাই এখন নিজের এলাকায় দাপুটে নেতা। ভোট বৈতরণি পার করাতে তাদের উপরই নির্ভর করছে দল। গোটা ঘটনায় হতাশ বিষমদ খেয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ময়নার দুলাল মণ্ডল, সহদেব মণ্ডল, গোষ্ঠীবিহারী মান্না, দুলাল মণ্ডল, মানিক ঢল সহ আরও অনেকে। নিহত দুলালের ছেলে রাজু মণ্ডল এখন আনাজের ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, বিষমদের ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। একই বক্তব্য নিহত আড়ংকিয়ারানা গ্রামের রাধানাথ মণ্ডলের ছেলে সুজিতেরও।
বিজেপির ময়না-৩ মণ্ডল কমিটির সভাপতি উত্তম সিংহ বলেন, বুদ্ধদেবের বাবা আমাদের দলের বুথ সভাপতি। তবে, বুদ্ধদেব সক্রিয়ভাবে দল করেন না। দীপক মাইতির বিষয়টা আমার জানা নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সন্দীপব্রত দাস বলেন, দুলাল বিষয়ী বুথ কমিটির দায়িত্বে আছেন। জেল থেকে বেরনোর পর কেউ কেউ বিজেপির পার্টির সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ