


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সার্ভার মাঝেমধ্যেই ডাউন হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে কাজ। তাই জবকার্ড হোল্ডারদের তথ্য যাচাই করে ই-কেওয়াইসি আপলোড করতে সমস্যায় পড়ছেন আধিকারিকরা। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এই কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। কিন্তু তাদের তৈরি করা অ্যাপ ঠিকমতো কাজ না করায় প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় পোর্টালের তথ্য বলছে, শনিবার পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ২৩ শতাংশ জবকার্ড হোল্ডারের কেওয়াইসি আপলোড করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে সময়সীমা বাড়ানোর কথা কিছু জানানো হয়নি বলেই খবর। তবে শুধু এ রাজ্য নয়, গোটা দেশেই একই হাল! কাজের নিরিখে বাংলার নীচে রয়েছে গুজরাত, বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ একাধিক ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য।
অবিলম্বে ১০০ দিনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যে কোনও দিন তা শুরু হয়ে যেতে পারে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এই অবস্থায় ই-কেওয়াইসি অ্যাপে না উঠলে মজুরির টাকা পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন জবকার্ড হোল্ডাররা। রাজ্যে ২ কোটি ৫৬ লক্ষের বেশি জবকার্ড হোল্ডার আছেন। এঁদের মধ্যে সিংহভাগের আধার লিংক করানো আছে। তবে এবার এঁদের আধার তথ্য যাচাই করে পুনরায় আপডেট করার জন্য পুজোর আগে চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্র। সেই মতো রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তর প্রতিটি জেলাকে নির্দেশ পাঠায়। পুজোর পর কাজ শুরু হতেই একের পর এক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে আধিকারিকদের। রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোথাও ছবি আপলোড করা যাচ্ছিল না, কোনও জায়গায় সার্ভার একেবারে বসে যাওয়ায় কাজই করা যায়নি। শুরুর দিকে এই সমস্যা বিরাট আকার নেয়। পরে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও আরও একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেমন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ইন্টারনেটের সংযোগে সমস্যা। যার ফলে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু ব্লকে কাজ বিঘ্নিত হয়েছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, রাতের দিকে সার্ভার ঠিক মতো কাজ করেছে। তবে যেহেতু গোটা দেশে একসঙ্গে সবাই এই সার্ভার ব্যবহার করছে, তাই প্রায়শই ‘ডাউন’ হয়ে যাচ্ছে সেটি। তা না হলে এই সময়কালে অর্ধেকের বেশি জব কার্ড হোল্ডারের তথ্য অ্যাপে উঠে যেত। কেন্দ্রীয় পোর্টালের তথ্য বলছে, রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় ১০ শতাংশ কাজও হয়নি। আবার কিছু জেলায় ৪০ শতাংশ জবকার্ড হোল্ডারের তথ্য যাচাই করে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে।