Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মেয়ের মৃত্যু, মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ মা-বাবার, এক যুবক ও দুই লঞ্চকর্মীর তৎপরতায় প্রাণরক্ষা

কিডনির জটিল অসুখে ভুগে একমাত্র কন্যাসন্তানের মৃত্যু হয়েছে কিছুদিন আগে।

মেয়ের মৃত্যু, মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ মা-বাবার, এক যুবক ও দুই লঞ্চকর্মীর তৎপরতায় প্রাণরক্ষা
  • ১৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কিডনির জটিল অসুখে ভুগে একমাত্র কন্যাসন্তানের মৃত্যু হয়েছে কিছুদিন আগে। তারপর চরম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন বাবা-মা। তা সহ্য করতে না পেরে শনিবার সকালে হাওড়ার সালকিয়ায় আহিরীটোলাগামী লঞ্চ থেকে মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ দেন। তাঁদের ভেসে যেতে দেখে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিন যুবক। ওই দম্পতিকে প্রাণে বাঁচান। চিকিৎসার পর দম্পতি সুস্থ। ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে পরিবারের কাছে।

Advertisement

এদিন সকাল সাড়ে ছ’টায় সালকিয়ার বাঁধাঘাট থেকে আহিরীটোলা যাওয়ার জন্য ভূতল পরিবহণের লঞ্চ এমভি সোনার বাংলা যাত্রী নিয়ে রওনা দেয়। বেশ ভিড়। আত্মহননের চেষ্টা করা ওই দম্পতিও তাতে ছিলেন। মাঝগঙ্গার কাছাকাছি আসার পর আচমকা লঞ্চের গেট খুলে গঙ্গায় ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁরা। তখন ভাটার টান। জলের স্রোতের টানে লঞ্চের পিছনের দিকে চলে যেতে থাকেন। যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন। লঞ্চের ছাদের উপর শুয়েছিলেন বছর আঠারোর এক যুবক। তাঁর নাম কৃষ্ণ পাল। তিনি তৎক্ষণাৎ দু’টি বয়া নদীতে ছুড়ে ফেলে নিজেও ঝাঁপ দেন। তাঁর সঙ্গে জলে ঝাঁপ দেন লঞ্চের আরও দুই কর্মী। তাঁদের নাম রামকুমার মাইতি ও অর্ঘ ঘোষ। দ্রুত সাঁতার কেটে দম্পতির কাছে পৌঁছে যান তিনজন। দম্পতিকে উদ্ধার করেন। তারপর একটি রেসকিউ লঞ্চে তুলে বাঁধাঘাটে নিয়ে আসেন। ঘাটে আসে মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিসও। লঞ্চে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘কিনারায় দাঁড়িয়ে ছিলেন দু’জন। একে অপরের হাত ধরেই জলে ঝাঁপ দেন। ভেসে যাওয়ার সময়ও হাত ছাড়েননি।’ 
উদ্ধারের পর টিএল জয়সওয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় দম্পতিকে। প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। খবর যায় পরিজনদের কাছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, লিলুয়ার ভট্টনগরের বাসিন্দা তাঁরা। কিছুদিন ধরে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছেন। তাঁদের বারো বছরের একমাত্র মেয়ে দীর্ঘদিন কিডনির অসুখে ভুগে সম্প্রতি মারা গিয়েছে। বহু চিকিৎসার পরও সুস্থ করা যায়নি। এর পাশাপাশি সম্পত্তি নিয়েও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিবাদ চলছিল ওই দম্পতির।
উদ্ধারকারী যুবক ও দুই লঞ্চ কর্মীর তৎপরতার প্রশংসা করেছেন প্রত্যেকে। কৃষ্ণবাবু লঞ্চঘাটেই থাকেন। মাঝগঙ্গায় লঞ্চ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতার দেওয়ার অভ্যাস ছোট থেকেই। তিনি বলেন, ‘জলে কাউকে ভেসে যেতে দেখলে নিজেকে আটকাতে পারি না। এর আগেও বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছি।’ হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, মানসিক অবসাদের কারণেই সম্ভবত ওই দম্পতি আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের সুস্থ অবস্থায় নিয়ে গিয়েছে পরিবার। উদ্ধারকারী তিনজনকে পুরস্কৃত করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ