নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা সর্বস্তরে। যার প্রভাব পড়েছে বাঙালির হেঁশেলেও। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। নদীয়া জেলায় দৈনিক গ্যাস বুকিং প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। ডিলার সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ সময়ে জেলায় যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার গ্যাস বুকিং হতো, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ হাজারে। সম্প্রতি রান্নার গ্যাসের দামও বেড়েছে। আগে একটি গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম ছিল ৮৮০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে দাম। দাম বাড়লেও বুকিং কমেনি, বরং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মানুষজন আগেভাগেই সিলিন্ডার তুলে রাখার চেষ্টা করছেন। ফলে জেলার বিভিন্ন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে বুকিংয়ের চাপ বেড়ে গিয়েছে।
ডিলারদের দাবি, এখনও পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তেল কোম্পানিগুলির পক্ষ থেকেও সরবরাহ কমার কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। কিন্তু টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর দেখেই অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে জ্বালানির সরবরাহে সমস্যা হতে পারে। সেই কারণেই আগাম বুকিংয়ের প্রবণতা বাড়ছে।
হাঁসখালির বগুলার এক গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর জানান, আগে যেখানে তাঁর এজেন্সিতে দৈনিক প্রায় ৩০০টি বুকিং আসত, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫০০। তাঁর কথায়, সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। কিন্তু মানুষজন যুদ্ধের খবর শুনে আতঙ্কে আগেভাগে বুকিং করছে। সেই কারণেই বুকিংয়ের সংখ্যা বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কিছু গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর গ্রাহকদের জানিয়ে দিয়েছেন, একটি সিলিন্ডার ডেলিভারি নেওয়ার অন্তত ২৫ দিন পর নতুন করে বুকিং করা যাবে। যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশিকা নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকরা সমস্যায় পড়ছেন এবং ক্ষোভও বাড়ছে।
কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা রাহুল চক্রবর্তী বলেন, যেভাবে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে গ্যাস পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে। সারাদিন খবরে দেখছি যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। তার উপর আবার গ্যাসের দামও বেড়েছে। সাধারণ মানুষ তাহলে যাবে কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের একটি বড় অংশের অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে পরিবহণ ব্যবস্থা, জাহাজ চলাচল এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
ভারত যেহেতু বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার প্রভাব রান্নার গ্যাসের দামেও পড়ে। সেই আশঙ্কাই এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। যদিও সরকারি স্তরে এখনও পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ কমার কোনও ঘোষণা নেই।
তবু যুদ্ধের আবহ, দাম বৃদ্ধি এবং আগাম বুকিংয়ের হিড়িক— এই তিনের মিলিত প্রভাবেই নদীয়ার গ্যাস ডিলারদের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন চাপ। আর এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নিজস্ব চিত্র।