সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বুধবার সকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল রামপুরহাট। অক্সিজেন সিলিন্ডার ফেটে দু’জন গুরুতর জখম হলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে একজনের পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ১০০মিটার দূরে গিয়ে পড়ে। আরও এক শ্রমিকের হাত উড়ে গিয়েছে। সিলিন্ডারের লোহার পাত উড়ে গিয়ে ২০০মিটার দূরে একটি বাড়ির উঠানে গিয়ে গেঁথে যায়। ঘটনাস্থলের কাছেই থাকা দু’টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকট শব্দে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। জখমদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের বর্ধমান মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে। পুলিশ এলাকা ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, লরি থেকে সিলিন্ডারটি নামানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটে। সিলিন্ডারের ভালভে লিক থাকার কারণে বিস্ফোরণ বলে তাদের অনুমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮নম্বর ওয়ার্ডে জাতীয় সড়কের ধারে এলাকার বাসিন্দা শর্মিলা দত্ত অক্সিজেন সিলিন্ডারের ডিস্ট্রিবিউটর। এখান থেকে বিভিন্ন নার্সিংহোম ও অসুস্থ ব্যক্তিরা ভাড়া করে সিলিন্ডার নিয়ে যান। এদিন সিউড়ি থেকে লরিতে চাপিয়ে শতাধিক সিলিন্ডার ওই ডিস্ট্রিবিউটরের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সাড়ে ৮টা নাগাদ লরি থেকে নামানোর সময় আচমকা একটি সিলিন্ডার বিকট শব্দে ফেটে যায়। লরিতে চেপে সিলিন্ডার নামাচ্ছিলেন রামপুরহাটের দিঘুলি গ্রামের বাসিন্দা চালক উজির হোসেন। তাঁর বাঁ পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ১০০মিটার দূরে একটি তেলেভাজার দোকানের সামনে পড়ে। লরির নীচে থাকা ভাঁড়শালার বাসিন্দা আবু তালেবের হাত উড়ে যায়। বিস্ফোরণের জেরে সিলিন্ডারটি কয়েক টুকরো হয়ে যায়। একটি লোহার পাত উড়ে গিয়ে ২০০মিটার দূরে থাকা একটি বাড়ির উঠানে গিয়ে গেঁথে যায়। ডিস্ট্রিবিউটরের বাড়ির জানালার ঢালাইয়ের অংশ ভেঙে গিয়েছে। জানালার গ্রিলের একাংশ উড়ে গিয়েছে। প্রতিবেশী একটি দোতলা বাড়ির একাধিক জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছে। দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। সড়কে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে প্রচুর মানুষ সেখানে জড়ো হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিকট শব্দ শুনে বেরিয়ে দেখি, পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। প্রথমে ভেবেছিলাম, রাস্তায় কোনও লরির চাকা ফেটে গিয়েছে। পরে ধোঁয়া সরতেই দেখি, দু’জন রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। আশপাশের বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছে। সিলিন্ডারের অংশ উড়ে গিয়ে অনেকটা দূরে পড়েছে। তেলেভাজার দোকানদার অনন্ত লেট বলেন, বিকট শব্দে দোকান কেঁপে ওঠে। ধোঁয়ায় অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। পরে দেখি, দোকানের সামনে একটি পা পড়ে রয়েছে, যা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে পুলিশ এসে পা-টি তুলে নিয়ে গিয়েছে। ডিস্ট্রিবিউটরের ছেলে দেবজ্যোতি দত্ত বলেন, লরি থেকে নামানোর সময় একটি সিলিন্ডার ফেটে যায়। মনে হচ্ছে, সিলিন্ডারে লিক থাকার কারণে প্রেসারের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণের পিছনে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র