সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমানের দামোদর কোল্ড স্টোরেজের সামনে জাতীয় সড়কে মীরছোবা রামমুদি কলোনি যাওয়ার রাস্তা পারাপারের কাটিং বন্ধ করে দেওয়া হল। এলাকার মানুষের দাবি মেনে ওই এলাকায় ফুট ওভারব্রিজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে এদিন কাটিং বন্ধ করে দেয়। এলাকার মানুষের দাবি, আগে ফুট ওভারব্রিজ চালু হবে, তারপর কাটিং বন্ধ করতে হবে। এই দাবি নিয়ে মীরছোবা রামমুদি কলোনি এলাকার বাসিন্দারা এদিন কাটিং বন্ধের কাজ আটকাতে হাজির হন। কিন্তু, প্রচুর সংখ্যক পুলিস ও র্যাফ আগে থেকেই উপস্থিত থাকায় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ কাটিং বন্ধ করতে সফল হয়। পুলিস লাঠি উঁচিয়ে ভয় দেখিয়ে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতির কথা জেনে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা পূর্ব বর্ধমান জেল তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি রাসবিহারী হালদার ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এই কাটিংটি পারপারের জন্য ভীষণ জরুরি। এটা না থাকলে আমারা প্রচণ্ড অসুবিধায় পড়ব। কিন্তু, অজ্ঞাত কারণে কোনওরকম আন্ডারপাস বা ওভারব্রিজ না করেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। আমরা এখানে আন্ডাসপাস বা ফুট ওভারব্রিজের দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আগে বেশ কয়েকবার কাটিং বন্ধের চেষ্টা করা হলে আমরা তা আটকে দিই। তাঁদের দাবি, এই আন্দোলনে তাঁরা কখনও পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা রাসবিহারী হালদারকে, আবার কখনও তাঁদের আন্দোলনে উপস্থিত হয়ে আশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৎকালীন সংসদ সদস্য এসএস আলুওয়ালিয়া। এরই মধ্যে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। মানুষের চাহিদা মেনে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় একটি ফুট ওভারব্রিজ অনুমোদন করেছে। সম্প্রতি ওই ব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা আরও বলেন, এখনই কাটিং বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের জাতীয় সড়ক ধরে কলকাতা বা দুর্গাপুর অভিমুখে প্রায় দেড় কিলোমিটার ঘুরে রাস্তা পারাপার করতে হবে, যা প্রচণ্ড সমস্যা তৈরি করবে। ওপারে রামমুদি কলোনি, মীরছোবা, ক্যানেল বাঁধ, সদরঘাট এলাকার মানুষজন এই কাটিং ব্যবহার করে এপারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এখানে হাজার–হাজার মানুষের বাস, আছে প্রচুর পড়ুয়া। তাঁরা বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে চিকিৎসা, বাজার সব কাজেই এপারে আসতে হয়। কাটিং বন্ধ হওয়ায় আমরা ভীষণ সমস্যায় পড়লাম। বাইরে থেকে বিবেকানন্দ কলেজে পড়তে আসা প্রচুর ছাত্রছাত্রীও বাসে ওঠানামার জন্য এই কাটিং ব্যবহার করেন।
এদিনই দেখতে পাওয়া যায় যে, বন্ধ হওয়ায় কাটিং এলাকার ডিভাইডার বিপজ্জনকভাবে টপকেই মানুষ যাতায়াত শুরু করেছেন। অন্যদিকে, জাতীয় সড়ক এবং পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কাটিং খুবই বিপজ্জনক। একাধিকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে। তাই বন্ধ করে দেওয়া হল। মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ফুট ওভারব্রিজ তৈরি শুরু হয়েছে। এনিয়ে রাসবিহারী বলেন, আমরা চাইছি যতদিন না ব্রিজ তৈরি হচ্ছে ততদিন অন্তত কাটিং দিয়ে একটি মানুষ যাতায়াতের জায়গা করে দেওয়া হোক। আমরা এই দাবি নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানাব।