ঢাকা: মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ঢাকায় অবস্থিত ট্রাইব্যুনালে হাসিনার সঙ্গে আরও ২৮ জনের বিরুদ্ধে দুটি আলাদা মামলায় চার্জশিট জমা পড়েছিল। সেই চার্জশিটের ভিত্তিতেই তিন বিচারপতির বেঞ্চ সকলের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। ২২ অক্টোবরের মধ্যে সকল অভিযুক্তকে ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীদের বিনা বিচারে আটক করা হত বলে অভিযোগ। আটকদের ‘আয়নাঘর’ নামক অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন অত্যাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। গুম হওয়া অনেকের এখনও খোঁজ মেলেনি। বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সিকে এই গুমের কাজে ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ। এর আগে জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগে হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল।
বাংলাদেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রথম মামলায় হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকি ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান সহ ১৭ জনের নাম রয়েছে। ওই মামলায় বাংলাদেশ সেনার গোয়েন্দা বিভাগ বা ডিজিএফআই-কে ব্যবহার করে অত্যাচার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য মামলায় নাম রয়েছে হাসিনা সহ ১৩ জনের। ওই মামলা অনুসারে, অভিযুক্তরা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর গোপন সেলে বিরোধীদের উপর অত্যাচার চালানোর সঙ্গে জড়িত। বাকি অভিযুক্তরা প্রাক্তন ও বর্তমান সেনাকর্তা। এদিন সরকার পক্ষের তরফে ট্রাইব্যুনালে বলা হয়, যেভাবে দিনের পর দিন বিরোধীদের উপর অত্যাচার ও তাঁদের গুম করা হয়েছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হোক। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করে।



