নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: সাদা কাগজে সার্টিফিকেট লিখে দিতে চাপ। সেই অন্যায় আবদার পূরণ না করায় সিপিএমের হাতে চরম হেনস্তার শিকার হতে হল পলাশী-১ পঞ্চায়েতের তফসিলি সম্প্রদায়ভুক্ত মহিলা প্রধান রুমা দাসকে। পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে প্রধানকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ, অশালীন আচরণ, কুরুচিকর মন্তব্য, কোনোও কিছুই বাদ রইল না। এমনকী তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে পলাশীর জানকিনগর এলাকা থেকে সিপিএমের ছাত্র নেতা রেজা মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানার পুলিস। ধৃতকে মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হয়। বিচারক তার চোদ্দো দিনের জেলা হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। সিপিএমের দাবি, মিথ্যা মামলায় ছাত্রনেতাকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে।
জানা গিয়েছে, মার্চ মাসের ১৭ তারিখ দুপুর ১২টা নাগাদ সিপিএমের ছাত্রনেতা রেজা মণ্ডল ও সাইন মণ্ডল পঞ্চায়েতে আসেন। সেখানে প্রধানকে একটি সাদা কাগজে সার্টিফিকেট লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেন তাঁরা। কিন্তু তাতে আপত্তি জানান প্রধান। অভিযোগ, তারপরেই তাঁরা প্রধানকে গালাগালি করে ও তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করে। পঞ্চায়েত অফিসের মধ্যে এই ধরনের আচরণ করতে প্রধান নিষেধ করলে তাঁকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ। একা পেলে প্রধানকে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকিও তাঁরা দেয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর গত ১৯ মার্চ মীরা ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন পঞ্চায়েত প্রধান। পুলিসের দাবি, অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার পর রেজা মণ্ডলকে নোটিস করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি থানায় হাজির দেননি। পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, ‘ওঁর বোনের জন্য ইয়ার গ্যাপ সার্টিফিকেট নিতে এসেছিলেন। আমি বলেছিলাম, এটা পঞ্চায়েত থেকে দেওয়া যায় কিনা বিডিওর সঙ্গে কথা বলব। ওইদিন আমি ওঁকে অনেক করে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু উনি বুঝেছিলেন না। উল্টে গালিগালাজ করতে শুরু করেন।’
এদিকে গত রবিবার দুপুরের দিকে পলাশীর হাজরাপোতা এলাকায় নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রবিবার রাতের মধ্যেই পুলিস মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায়, অরাজনৈতিক মঞ্চের মাধ্যমে বামেরা প্রতিবাদ মিছিল করে। সেই মিছিলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সিপিএমের ছাত্রনেতা রেজা মণ্ডল। তারপর রাতেই তাঁকে পুলিস বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
কালীগঞ্জের সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, ‘বিষয়টি এতদিনের পুরনো। অথচ কেউ জানেই না। রেজা এর আগে থানার সামনে এসে ডেপুটেশন দিয়েছিল। তাহলে তখন গ্রেপ্তার কেন করা হল না? সোমবার রাতেই কেন করতে হল? মঙ্গলবার এই আমাদের ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য মিরা-১ পঞ্চায়েত থেকে ফাঁড়ি পর্যন্ত মিছিল করেছি। সেইসঙ্গে পঞ্চায়েতে ডেপুটেশন দিয়েছি।’
কালীগঞ্জ ব্লকের তৃণমূলের সহ সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমরাও চাই পলাশীর নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাক। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে সিপিএম রাজনীতি করছে। ওরা মহিলাদের জন্য লড়াই করে। অথচ একজন পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধানকে শ্লীলতাহানি করার দায়ে অভিযুক্তের মুক্তি চাইছে। এটা ন্যক্কারজনক আচরণ।’ কৃষ্ণনগর আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ছাত্রনেতাকে। -নিজস্ব চিত্র