সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: ভেষজ ওষুধ থেকেই কি বিষক্রিয়া? বিভিন্ন গাছ-গাছালি থেকে তৈরি ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণ বাদেই অসুস্থ হয়ে পড়েন কাকদ্বীপের হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার কৈলাশনগরের বাসিন্দা এক দম্পতি। তাঁদের তড়িঘড়ি কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দম্পতির নাম হরবন্ধু দাস (৭১) ও মিনতি দাস (৬৫)। তাঁরা স্থানীয় হীরালাল বাজারে সব্জি বিক্রি করতেন। পুলিস দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
আর পাঁচটা দিনের মতো সোমবার ভোরে সব্জির দোকানে যাওয়ার আগে ব্লাড প্রেসার ও সুগারের জন্য বাড়িতেই তৈরি ভেষজ ওষুধ খান দু’জন। বিভিন্ন গাছ-গাছালির রস দিয়ে নিজেরাই ওই ওষুধ তৈরি করতেন তাঁরা। ওষুধ খাওয়ার পর তাঁরা ভ্যান নিয়ে পাইকারি বাজারের দিকে চলে যান সব্জি কিনতে। কিন্তু পথেই অসুস্থ বোধ করায় তাঁরা মাইতির চক কালীনগরে মেয়ের বাড়িতে ঢুকে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘরে ঢোকার পর দু’জনেই মেঝেতে শুয়ে ছটফট করতে থাকেন। বেশ কয়েকবার বমিও করেন। তৎক্ষণাৎ মেয়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তাররা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা অঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘হরবন্ধুবাবু সুগার ও ব্লাড প্রেসারের জন্য ভেষজ ওষুধ খেতেন। নিজেরাই বাড়িতে বসে বিভিন্ন গাছের শিকড়, পাতা, ফল দিয়ে তৈরি করতেন ওই ওষুধ। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই ওষুধ খেয়ে আসছেন। এদিনও দু’জনে ঘর থেকে বেরনোর আগে ওই ওষুধ খেয়েছিলেন। তার কিছুক্ষণ বাদেই তাঁরা অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, ওই ভেষজ ওষুধ থেকেই বিষক্রিয়া হয়েছে। পুলিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দম্পতির মৃতদেহ এদিন ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।