নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর জি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলার বিচার পর্বের প্রথম দিনের শুনানিতেই বিচারকের চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হলে সিবিআইকে। মঙ্গলবার আলিপুরের সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক সুজিতকুমার ঝায়ের এজলাসে ছিল এই মামলার শুনানি। সাক্ষ্যদান চলাকালে মামলার নথিতে আসল অভিযোগপত্র দেখতে না পেয়ে বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার ও সরকারি কৌঁসুলিকে প্রশ্ন করেন, ‘ওই নথি কোথায় গেল?’ দেখা যায়, মামলার কেস‑ডায়েরিতে ওই নথির কোনও হদিশ নেই। শুরু হয় শোরগোল।
অভিযুক্তদের কৌঁসুলিরা প্রশ্ন তোলেন, ‘ওই নথি কি আদৌ আদালতে জমা পড়েছিল?’ আরও দেখা যায়, ঘটনার পর যে অভিযোগ টালা থানায় জমা পড়েছিল, সেই এফআইআর কপির নথিরও কোনও হদিশ নেই! বিচারকের একের পর এক প্রশ্নের কোনও সন্তোষজনক ব্যাখা দিতে পারেনি সিবিআই। এরপরই বিচারক প্রশ্ন তোলেন, ‘মামলার শুনানিতে সম্পূর্ণ নথি না নিয়ে কেন আদালতে আসেন?’ সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার বলেন, ‘এনিয়ে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়া হোক।’ একথা শুনে বিচারক বলেন, ‘জেল হেফাজতে রেখে অভিযুক্তদের বিচার চলছে, এই অবস্থায় এধরনের খামখেয়ালিপনা বরদাস্ত করা যায় না। এই ঘটনা কোনও অবস্থাতাতেই কাম্য নয়। এতে কোর্টের সময় নষ্ট হচ্ছে।’
এরপরই বিচারক এদিনকার মতো শুনানি মুলতুবি করে দেন। প্রথম সাক্ষী মামলাকারী কাঠগড়া থেকে নেমে যান। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আগামী ২৯ জুলাই। ওইদিন ওই নথির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক সিবিআইকে।
সম্প্রতি এই মামলায় আদালত চার্জগঠন করে ওই হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে। অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতিসহ একাধিক ধারায় ওই চার্জ গঠন করা হয়। এদিন ধৃতদের তরফে দুই আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত ও আনন্দ গঙ্গোপাধ্যায় আাদালতে প্রশ্ন তোলেন, ‘যেখানে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথির খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে কোনও অবস্থাতাতেই মামলা চলতে পারে না। কারণ যে নথির কথা বলা হচ্ছে, এই মামলার শুনানি চলাকালে তার গুরুত্ব অসীম।’ এদিন এই মামলায় অভিযুক্তদের কোর্টে হাজির করা হয়নি। জেল থেকে চলে ভার্চুয়াল শুনানি।