সায়ন মজুমদার, শিলিগুড়ি: প-এ পুজো, প-এ পাহাড়ও। সেই প দিয়েই আবার পেটপুজোও। উত্তর ভারতের একাধিক পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র প্রকৃতির রোষে এখন তছনছ। সিকিমের উত্তরাংশেও অনেকটা একই হাল। কিন্তু বর্ষা শেষে সৌন্দর্যের অপরূপ ডালি নিয়ে অপেক্ষায় উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কার্শিয়াংয়ের পাহাড়। এমনিতে পাহাড়ে আসার জন্য কোনও অজুহাতের দরকার হয় না। বাঙালির বেড়ানোর ইচ্ছে মানেই প্রথম পছন্দ পাহাড়। সেখানে পুজোর ছুটি কাটানো তো স্পেশালই হবে। ফলে এখন থেকেই বঙ্গ ব্রিগেড পাহাড়মুখী।
পাহাড়ে কোথায় ঘুরতে হয় তা আলাদা করে বলার দরকার লাগে না। তার চেয়ে পুজোর পেটপুজোর একটু খোঁজ দেওয়া যাক। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে ঘুরতে গেলে জিভে জল আনা খাবারের অপশনের অন্ত নেই। সেখানে কোনায় কোনায় নেপালি, বাঙালি খাবারের দোকান। এছাড়া কেভেন্টার্স, গ্লেনারিজ, কুঙ্গা, মহাকাল তো আছেই। আর পুজোর সময় মায়ের ভোগ? তাও মিলবে পাহাড়ে।
দার্জিলিংয়ের সবথেকে বিখ্যাত পুজো নৃপেন্দ্র নারায়ণ বেঙ্গলি হলের। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক এই পুজো দেখতে যান। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে অঞ্জলির ব্যবস্থা আছে। ওই তিনদিন পর্যটকদের জন্য থাকে বিশেষ ভোগের আয়োজনও। মেনুতে খিচুড়ি, লাবড়া আর চাটনি। পর্যটকদের সুবিধার্থে পাহাড়ের সব হোটেল ও ট্যুর অপারেটরদের কাছে পুজোর নির্ঘণ্ট পাঠিয়ে দেন বেঙ্গলি হলের পুজো উদ্যোক্তারা।
কার্শিয়াংয়ে বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের পুজোও পাহাড়ের আর একটি বিখ্যাত পুজো। ১৯১৬ সালে পুজো শুরু হয়েছিল। রাজরাজেশ্বরী হলে আয়োজিত এই পুজোয় প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক ভিড় করেন। এছাড়া শতাব্দী ছুঁই ছুঁই আর একটি পুজো কালিম্পং সর্বজনীন। বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন ও কালিম্পং সর্বজনীন, দুই পুজো কমিটিই পর্যটকদের জন্য অষ্টমীতে অঞ্জলি দেওয়ার ব্যবস্থা করে। আর পুজোর দিনগুলিতে থাকে বসে ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থাও। মেনুতে থাকে খিচুড়ি, ঘণ্ট, চাটনি, মিষ্টি।
এছাড়া শিলিগুড়ির কাছে তরাইয়ের গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্রগুলিও এবার পর্যটকদের হট ফেভারিট। তালিকায় রয়েছে তরিবাড়ি থেকে গজলডোবা, লালপুল থেকে নেপাল সীমান্ত। কোথাও নদীবেষ্টিত, জঙ্গলঘেরা নিরিবিলি গ্রামের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করেন পর্যটকরা। আবার কোথাও মেলে অরণ্যের স্বাদ। সেই সঙ্গে পুজোর মরশুমে প্রাতঃরাশ ও মধ্যাহ্নভোজের থালিতেও থাকছে বিশেষ মেনু। চাউমিন, মোমো থেকে ভাত, ডাল, তরকারি, ফ্রায়েড রাইস, বিরিয়ানি, চিকেন, মটন কষা–কী নেই। সেই সঙ্গে মিলবে তিস্তার ‘রুপোলি ফসল’ বোরলি মাছ ও কাঁকড়ার নানা পদ।
এবার আসা যাক কোচবিহারের কথায়। রাজ আমলের ইতিহাস যদি আকর্ষণ করে, তবে অবশ্যই ঘুরে দেখা উচিত রাজার শহর কোচবিহার। এখানে কোচ রাজাদের আমলের বড়দেবীর পুজো একেবারেই অনন্য। এমন পুজো সারা বাংলায় আর একটা পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। ঠাকুরের রূপ আলাদা ভক্তি সঞ্চার করে মনে। রাজার শহরে লোকাল থেকে একাধিক নামি দামী রেস্তরাঁর অভাব নেই। তবে এখানে এলে চেখে দেখা যায় মায়ের ভোগ। বড়দেবীর পুজোয় শুধুমাত্র নবমীর দিনই অন্নভোগ হয়। বাকি দিনগুলিতে থাকে পরমান্ন ভোগ। নবমীতে ভক্তরাও মাকে ভোগ উৎসর্গ করতে পারেন। ভোগে বলির পাঁঠার মাংস ও বোয়াল মাছ মেশানো হয়। সবমিলিয়ে পুজোয় উত্তরবঙ্গে রসনাতৃপ্তির বিপুল আয়োজন। ফলে পুজোয় জমিয়ে পেটপুজো।