নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্র অবিলম্বে বাংলায় ১০০ দিনের কাজ শুরু না করলে আদালত অবমাননার মামলা করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও মনরেগা প্রকল্পের কাজ বাংলায় শুরু না-হওয়া নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন পশ্চিমবঙ্গ খেতমজুর সমিতির আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তারই প্রেক্ষিতে এদিন এই নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। ১৮ জুন রাজ্যে কাজ চালুর নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ১ আগস্ট থেকে কাজ চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় কেন্দ্র। কিন্তু, সেই মামলা খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। তার পর ফের ৮ নভেম্বর অবিলম্বে কাজ চালুর নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
অন্যদিকে, সোমবার কলকাতায় এসে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ চালু হওয়াকেই গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি সমর্থন করল। এদিন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশন, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামসহ কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনার মাঝেই উঠে আসে বাংলায় স্তব্ধ ১০০ দিনের কাজ প্রসঙ্গও। এই বিষয়ে রাজ্যের তরফে সমস্ত তথ্য তুলে ধরা হলে, কোরাপুটের কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি শংকর উলাকার নেতৃত্বাধীন গ্রামোন্নয়নের কাজের জন্য গঠিত স্ট্যান্ডিং কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, ‘অন্যান্য রাজ্যে এই প্রকল্পের টাকা পেলে, পশ্চিমবঙ্গ পাবে না কেন?’ ১০০ দিনের কাজসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলি সংক্রান্ত কিছু তথ্য চেয়েছেন এই কমিটির সদস্যরা। সেসব যাচাই করে বাংলায় ১০০ দিনের কাজ চালু করার সুপারিশ তাঁরা করতে পারেন। এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর, রাজ্যে এসে ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)।
ইতিমধ্যে, সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্ট অবিলম্বে রাজ্যে কাজ চালুর নির্দেশ দিয়েছে। তারপরেও কেন্দ্র এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না করায় স্ট্যান্ডিং কমিটির এদিনের মন্তব্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই কমিটিতে রয়েছেন রাজ্যসভার সদস্য সামিরুল ইসলাম। এদিনের বৈঠকে রাজ্যের প্রাপ্য নিয়ে তিনিও সুর সপ্তমে তোলেন। সমস্ত অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট কেন্দ্রকে দেওয়া সত্ত্বেও, কেন বাংলাকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে? এই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, পঞ্চায়েত সচিব পি উলগনাথানসহ রাজ্যের একাধিক পদস্থ কর্তা। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে কোন প্রকল্প খাতে কত টাকা বকেয়া রয়েছে সেই তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। আবার, কমিটির তরফে কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পের নজরদারির জন্য জেলায় জেলায় বর্ষীয়ান সাংসদকে মাথায় রেখে ‘দিশা কমিটি’ গঠনেও বিশেষ জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।