Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গ্রাহক বিক্ষোভ রাজ্যজুড়ে, গৃহস্থ বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ

স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ হয়। মাত্রাতিরিক্ত বিল আসার অভিযোগ তুলে চলতে থাকে আন্দোলন। এবার সারা রাজ্যজুড়ে গৃহস্থের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ করল রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তর।

গ্রাহক বিক্ষোভ রাজ্যজুড়ে, গৃহস্থ  বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, চুঁচুড়া ও কলকাতা: স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ হয়। মাত্রাতিরিক্ত বিল আসার অভিযোগ তুলে চলতে থাকে আন্দোলন। এবার সারা রাজ্যজুড়ে গৃহস্থের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ করল রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তর। সোমবার এনিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে দপ্তর। তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস এবং টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ারে সফলভাবে স্মার্ট মিটার বসানোর পর গৃহস্থ বাড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে এই মিটার বসানো হয়। এই অবস্থায় কিছু অভিযোগ আসায় গৃহস্থের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ রাখা হল। 

Advertisement

এদিকে স্মার্ট মিটারের প্রতিবাদে সোমবার বারাসতে এক বিক্ষোভকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুপুরে বিদ্যুৎ দপ্তরের বারাসত ডিভিশন অফিসের সামনে আগুন জ্বালিয়ে যশোর রোড অবরোধ করেন গ্রাহকরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে এই অবরোধে তীব্র যানজট তৈরি হয় গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায়। পরে, বিক্ষোভকারীদের একটি দল দপ্তরে গিয়ে লিখিত ডেপুটেশন জমা দেন। এনিয়ে বিক্ষোভকারী জিতু তরফদার, স্বপন দেবনাথ বলেন, ‘স্মার্ট মিটার বসানোর ফলে বিদ্যুৎ বিল প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। স্মার্ট মিটারের বদলে পুরানো মিটার বসাতে হবে। সেই দাবিতেই এদিন বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন দেওয়া হল।’
স্মার্ট মিটারকে কেন্দ্র করে এদিন হুগলি জেলার চুঁচুড়াতেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। হুগলি মোড়ে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির অফিসে বিক্ষোভ দেখান বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। 
বারাসতের ঘটনা নিয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ডিভিশনাল ম্যানেজার সোমনাথ মণ্ডল বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশমতো স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ চলছিল। সোমবার বিকেলে রাজ্য সরকারের তরফে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা মানা হবে।’ কিন্তু যে-সমস্ত বাড়িতে স্মার্ট মিটার ইতিমধ্যেই বসানো হয়ে গিয়েছে সেগুলির ভবিষ্যৎ কী? এই প্রসঙ্গে সোমনাথবাবু বলেন, ‘এখনও এ নিয়ে উচ্চদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। এলে সেইমতোই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরও অবশ্য আন্দোলন চলবে বলে দাবি করেছে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সংগঠন অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন বা অ্যাবেকা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘সরকার জানিয়েছে, তারা গৃহস্থের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসাবে না। আমাদের প্রশ্ন, যাঁদের বাড়িতে ইতিমধ্যেই সেই মিটার বসে গিয়েছে, তাঁদের মিটার খুলে কি পুরনো মিটার বসানো হবে? এই বিষয়ে সরকার কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। রাজ্য সরকার যদি স্মার্ট মিটারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে, তাহলে কি বাণিজ্যিক ও ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থায় যে মিটারগুলি বসানো হয়েছে, সেগুলিও বাতিল করা হবে? এরও জবাব নেই।’ 
সুব্রতবাবুর কথায়, ‘সরকার ২০২১ সালের ৯ জুলাই যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল, তাতে সাধারণ গৃহস্থের বাড়িতে এই মিটার বসানোর কথাই নয়। তার কারণ, সরকার জানিয়েছিল, সবার আগে সরকারি দপ্তরে ওই মিটার বসবে। তারপর ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পে তা বসানো হবে। সেই কাজ শেষ হওয়ার পর আসবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের বাড়িতে মিটার বসানোর কাজ। সরকার কিন্তু সব ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পের মিটার এখনও স্মার্ট করতে পারেনি। শেষ হয়নি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে মিটার বসানোর কাজও। তাহলে সরকার কেন গৃহস্থের বাড়িতে এই মিটার বসাচ্ছিল এতদিন, সেই প্রশ্নই বারবার তুলেছি আমরা। যতক্ষণ-না সরকার সম্পূর্ণভাবে স্মার্ট মিটার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছে, ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ