নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তীব্র গরমে শহরের একাধিক জায়গায় ঠিকমতো জল পৌঁছচ্ছে না। সরু ধারায় জল পড়ছে। মানুষের সমস্যার শেষ নেই। এই অসহনীয় পরিস্থিতিতে দমদম পুরসভায় পানীয় জলের ট্যাঙ্ক থেকে জল নিয়ে চলছে বহুতল নির্মাণের কাজ। বিষয়টি জানার পর সবাই হতবাক। প্রবল ক্ষুব্ধ নাগরিকরা। শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। শহরের নাগরিকরা সরাসরি বলছেন, ‘পুরসভার সঙ্গে নির্মাণকারীদের অত্যন্ত সুসম্পর্ক। তাই পানীয় জল দিয়ে বাড়ি তৈরির কাজ চলছে।’ আর পুরকর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানীয় জলের ট্যাঙ্কে পুকুরের জল ভরে পাঠানো হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দমদম পুরসভার হাসপাতাল থেকে কয়েকশো মিটার এগলে বাঁ হাতে পড়ে নির্মীয়মান বহুতলটি। সেখানে রাস্তার উপর পড়ে আছে ইট, বালি, সিমেন্ট সহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী। তার পাশে দাঁড়িয়ে পুরসভার তিন-তিনটি পানীয় জলের ট্যাঙ্ক। সেই ট্যাঙ্কের নল থেকে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার জল সরবরাহ হচ্ছে পাশে রাখা বালতিতে। দু’জন নির্মাণকর্মী তা নিয়ে বালি, সিমেন্ট ও স্টোন চিপস মেশানোর মেশিনে ঢালছেন। স্থানীয়রা দেখার পরও আতঙ্কে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। এক দোকানদার নাম গোপন করে বললেন, ‘কিছু বললেই হামলার আশঙ্কা আছে। বড় পার্টি তাই সমস্ত রকম ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ জল পাচ্ছেন না। এখানে পানীয় জল দিয়ে এভাবে হচ্ছে বাড়ি তৈরি।’
দমদম পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটি ট্রান্স মিউনিসিপ্যাল প্রোজেক্ট থেকে দমদম, উত্তর ও দক্ষিণ দমদমে পানীয় জল সরবরাহ হয়। কিন্তু গঙ্গার জলস্তর কমায় সরবরাহের পরিমাণ কমছে। পুরসভাগুলিকে ভূগর্ভস্থ পাম্প ব্যবহার করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তবে তাতেও সমস্যা মিটছে না। ওই প্রকল্প থেকে দমদম পুরসভার পাওয়ার কথা ছয় এমজিডি জল। কিন্তু এখন মাত্র ৩.৬ এমজিডি জল পাচ্ছে দমদম। এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ পানীয় জল দেদার ব্যবহার করে বাড়ি তৈরির কাজ চলায় শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। এ খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দমদমের বাইরেও। যদিও পুরসভার চেয়ারম্যান হরেন্দ্রনাথ সিং পানীয় জল নির্মাণকাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় জল থাকে না। তখন নির্মাণে সমস্যা হয়। আমাদের কাছে আবেদন জমা পড়ে। তখন পুরনো পানীয় জলের ট্যাঙ্কে পুকুরের জল ভরে নির্মাণস্থলে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’ তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘পুকুরের জল এত স্বচ্ছ ও পরিষ্কার কি হতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘খোঁজ নেব।’