নয়াদিল্লি: শনিবার ভারত-পাক সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়ার বন্যা বইতে শুরু করেছে। শাসকদল বিজেপি সেনাবাহিনীর প্রশংসার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদির বন্দনায় মাঠে নেমে পড়েছে। যদিও বিরোধী দল কংগ্রেসের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারকে রীতিমতো চেপে ধরা হয়েছে। ভারত সরকারের আগেই যেভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা সামনে আসে, তা নিয়ে সরব হয়েছে হাত শিবির। দলের নেতা জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, নজিরবিহীনভাবে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে যেভাবে ঘোষণা হল, সেকথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা এখন আশু প্রয়োজন। পহেলগাঁও হামলা থেকে শুরু করে এই ১৮ দিন ধরে চলা যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকারও প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে পরোক্ষে খোঁচা দিতে আসরে নামেন কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনেত। এজন্য ৭১-এর যুদ্ধে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দৃঢ় মানসিকতার উদাহরণ টেনে আনেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘আমেরিকার চোখে চোখ রেখে পাকিস্তানকে দু’টুকরো করে বিশ্বের ভূগোল বদলে দিয়েছিলেন— এমনই ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।’ অর্থাৎ, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে পরোক্ষে আমেরিকার চাপে পড়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণার অভিযোগ তুলছে কংগ্রেস। ইন্দিরার প্রসঙ্গ টেনে সুপ্রিয়ার সুরেই বিজেপিকে বিঁধেছেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষও।
বিরোধীদের এই কটাক্ষের মুখে বিজেপির তরফে এদিন মোদি বন্দনায় মাঠে নামেন দলের আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তিনি লিখেছেন, ‘অদম্য সাহসিকতার জন্য ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশংসা করে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বক্তব্য, অতি অল্প সময়ের মধ্যেই জঙ্গি ও তাদের মদতদাতাদের শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সংঘর্ষ বিরতির সিদ্ধান্তকে ‘ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করে সিপিএম বলেছে, পাকিস্তানকে নিশ্চিত করতে হবে যে ভূখণ্ডের মধ্যে কোনও রকম জঙ্গি কার্যকলাপ হবে না।
সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলির তরফেও। মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লা বলেছেন, দেরিতে হলেও এই ঘোষণাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। দু-তিনদিন আগে এই ঘোষণা হলে আমরা যে রক্তপাত ও প্রাণহানি দেখলাম, তা হয়তো এড়ানো যেত। পিডিপি নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, গত কয়েকদিন ধরে সীমান্তপারের শেলিংয়ে দুর্গতির মুখে পড়তে হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষকে। ভালো খবর হল সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণা হয়েছে। এর ফলে সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ স্বস্তি পাবেন। একইসঙ্গে মুফতির দাবি, সন্ত্রাসবাদ কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়।



