নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিকাশিনালার মধ্যে বড় বড় কংক্রিটের চাঙড়! পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে এর ফলে ভূগর্ভস্থ নিকাশি অনেকটাই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। কংক্রিটের চাঙড়গুলি ভেঙে নিকাশিকে পুরোপুরি কার্যকর করতে বিস্তর বেগ পোহাতে হচ্ছে পুরসভাকে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিতে উল্টোডাঙার হাডকো মোড়ে প্রচুর জল জমে। পাম্পিং স্টেশনের পাম্প চালিয়ে দ্রুত সেই জল নামানোর ব্যবস্থাও হয়। সেই সময় দেখা যায়, উল্টোডাঙা পাম্পিং স্টেশন থেকে যে ভূগর্ভস্থ নিকাশি সোজা ধাপা পাম্পিং স্টেশনে গিয়ে পড়েছে, সেই নালার ধারণক্ষমতা বেশ কমে গিয়েছে। এই নিকাশিনালা উল্টোডাঙা, কাঁকুড়গাছি, মানিকতলা মেইন রোড, ই এম বাইপাস, সল্টলেকের একাংশ সহ বিভিন্ন অঞ্চলের নিকাশির জল বহন করে। এই পরিস্থিতিতে নালায় ডিসিল্টিং বা পলি তোলার সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা। আর সেই কাজ করতে গিয়েই কংক্রিটের আস্তরণ সরাতে কালঘাম ছুটছে পুরকর্মীদের।
উল্টোডাঙা সংলগ্ন সল্টলেক মোড় থেকে ই এম বাইপাসের তলা দিয়ে একটি বক্স ড্রেন (বড় নিকাশি নালা) চলে গিয়েছে ধাপা লকগেট পাম্পিং স্টেশন পর্যন্ত। এই ড্রেনটি উল্টোডাঙা এলাকার একাধিক ওয়ার্ড সহ সল্টলেকের বেশ কিছু অঞ্চলের জল টানে। উল্টোডাঙা পাম্পিং স্টেশনের সঙ্গেও এটি যুক্ত। বহু বছর ধরে ভূগর্ভস্থ এই নিকাশিতে পলি জমছে। ফলে বৃষ্টির বাড়তি জল টানতে পারছে না। তাই পুরসভা নিকাশিনালা পলিমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। আপাতত উল্টোডাঙার সল্টলেক গেট থেকে বেঙ্গল কেমিক্যালস পর্যন্ত নিকাশির সংস্কার শুরু হয়েছে। সাফাইয়ের কাজে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন নামানো হয়েছে। কিন্তু তাতেও খুব একটা সুবিধা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ওই অঞ্চলে একাধিক বহুতল নির্মাণ হয়েছে। সেই নির্মাণের সময় পাইলিংয়ের তরল বা সিমেন্ট গোলা জল নিকাশির ভিতরে গিয়ে শক্ত হয়ে গিয়েছে। সেগুলি ভাঙতেই বেগ পেতে হচ্ছে। ভেঙে নিকাশি থেকে বার করে ফেলা হচ্ছে কংক্রিটের চাঙড়। স্থানীয় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, ‘নিকাশিনালা পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, ভিতরে কংক্রিট জমে জমে পাথরের মতো হয়ে রয়েছে। সেগুলি ভেঙে নালা পরিষ্কার করতে কর্মীদের হাল খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এটা খুব বড় একটা সমস্য। বিভিন্ন বহুতল যখন নির্মাণ হয়, তখন পাইলিংয়ের সেই সিমেন্ট গোলা জল গালিপিট দিয়ে ভূগর্ভস্থ নালায় চলে আসে। সেগুলি জমাট বেঁধে ড্রেনের মধ্যে জলের গতিপথ আটকে দিচ্ছে। শুধু আমার ওয়ার্ড নয়, শহরের সর্বত্র এই সমস্যা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের বিষয়টি ভাবা দরকার।’ এ প্রসঙ্গে নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিং বলেন, ‘এই ধরনের সমস্যা এড়াতে বিল্ডিং বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কর্তৃপক্ষকে মোটা টাকা জরিমানা করা হয়।’ যদিও সেই নজরদারি কতটা হয়েছে বা আছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে পুরকর্তাদের একাংশের মধ্যেই।