প্রীতেশ বসু, কলকাতা: দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ হিসেবে রাজ্য সরকার ধুতি, শাড়ি, লুঙ্গি সহ পুরুষ ও মহিলাদের বিভিন্ন পোশাক তুলে দেয়। চাদর, বেডশিট, কম্বলের মতো বিছানার বিভিন্ন সামগ্রীও দেওয়া হয়। প্রতি বছর এর জন্য খরচ হয় কোটি কোটি টাকা। এবার এসব সামগ্রীর গুণমান বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য। বস্ত্র বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি এক্সপার্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দিনে কোন ত্রাণসামগ্রীর (ত্রিপল বাদে) গুণমান কেমন হওয়া উচিত, তা নির্দিষ্ট করে দেবে সাত সদস্যের এই কমিটি। সেই অনুযায়ী সমস্ত পোশাক তৈরি করতে হবে প্রস্তুতকারক সংস্থাকে।
সূত্রের খবর, ত্রাণ হিসেবে বিলি করা কম্বল হোক বা ধুতি-শাড়ি—সেগুলির মান নিয়ে অভিযোগ থাকে বিস্তর। কখনও তা কারও গায়ে ঠিকমতো আঁটে না, কখনও কম্বল গায়ে দিলেই চুলকুনি শুরু হয়ে যায়। বেশ কিছু জায়গা থেকে এমন খবর আসার পর নড়েচড়ে বসে নবান্ন। তড়িঘড়ি বৈঠক ডেকে ত্রাণসামগ্রীর গুণমান নির্দিষ্ট করতে এবং তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কী করণীয়, তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারিকে মাথায় রেখে সাত সদস্যের কমিটিতে থাকছেন চারজন বস্ত্র বিশেষজ্ঞ। আছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুট অ্যান্ড ফাইবার টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর দেবাশিস দাস, শ্রীরামপুরের গভর্নমেন্ট কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেক্সটাইল টেকনোলজির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর অনির্বাণ দত্ত, বহরমপুর গভর্নমেন্ট কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেক্সটাইল টেকনোলজির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর শুভাশিস দাস এবং টেক্সটাইল ডাইরেক্টরেটের জয়েন্ট ডিরেক্টর শঙ্কর সরকার। এই সদস্যরা আলোচনা করে দপ্তরকে রিপোর্ট দেবে। যত দ্রুত সম্ভব এই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। শীঘ্রই নবান্নে এই কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে খবর।
জানা গিয়েছে, ত্রাণসামগ্রী সরবরাহের দায়িত্বে থাকে বিভিন্ন সংস্থা। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে আগামী দিনে ত্রাণের পোশাক তৈরির জন্য নির্দেশিকা জারির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের খবর। বর্তমানে শিলিগুড়ি, মালদহ, বর্ধমান এবং কলকাতায় সরকারের গুদাম এবং বিভিন্ন জেলার হিসেব ধরলে মোট ১৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ধুতি, ১২ লক্ষ ৩৫ হাজার শাড়ি, ৮ লক্ষ ৯০ হাজার ছেলেদের পোশাক, ৮ লক্ষ ৩৮ হাজার মেয়েদের পোশাক, ৪ লক্ষ ৬১ হাজার কম্বল মজুত রয়েছে।