নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় বিধানসভা ভোট হবে আগামী মার্চ-এপ্রিল নাগাদ। কিন্তু তার আট-ন’মাস আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনের ‘অতি সক্রিয়তায়’ অন্য গন্ধ পাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশন নিজের এক্তিয়ার ভুলে গিয়ে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করেন তিনি। যদিও তাঁর প্রত্যয়ী সুর, বিজেপিকে আরও বেশি করে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য বাংলার মানুষ প্রস্তুত।
বস্তুত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে শাসক-বিরোধীরা ভোটমুখী কর্মকাণ্ডে নেমে পড়েছে। থেমে নেই নির্বাচন কমিশনও। ভোট সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি তারা শুরু করে দিয়েছে। এসআইআর নিয়ে এমনিতেই রাজনীতির হাওয়া গরম। তারই মধ্যে অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচনী কাজে যুক্ত বাংলার চারজন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
এই প্রেক্ষাপটেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যে কাজ করছে, তা তাদের এক্তিয়ারের বাইরে। নির্বাচনী আচরণবিধি জারি হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শুরু হয়। কিন্তু গত তিন-চারমাস ধরে কমিশনের কাজ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তারা বাংলার নির্বাচিত সরকারকে কাজ করতে দেবে না বলেই এটা করেছে। এটা বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে।
অভিষেকের সংযোজন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে যাতে প্রকৃত বাঙালিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন। নির্বাচন কমিশন এই নির্লজ্জ ভূমিকা নিয়েছে যাতে, এই সমস্ত মানুষের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া যায়। ওরা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের বোঝা উচিত, নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন সংস্থা এবং সংবিধানের আওতার মধ্যেই তাদের কাজ করতে হবে।
আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও সবরকম কাজের দিকে তৃণমূল নজরদারি আরও বাড়তে চলেছে বলেই খবর। ঘটনাচক্রে তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা হওয়ার পর এদিন প্রথম দিল্লি গিয়ে লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অভিষেক। দলের সাংসদদের এক হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ করেছেন, এসআইআর নিয়ে সংসদে আলোচনা না-হলে সভা চলতে দেওয়া হবে না। বাংলায় বিজেপি এসআইআর নিয়ে যত চেঁচাবে তত ওদের ভোট কমবে। আর বড় বড় কথা না বলে ক্ষমতা থাকলে বাংলায় রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি করে দিক বিজেপি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রসঙ্গ টেনে এনে নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেছেন তৃণমূলের সেনাপতি। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় অর্থনীতি আইসিইউ’তে আছে। খারাপ থেকে আরও খারাপ হয়েছে গত দশবছরে। তার উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিলে ব্যাপক হারে চাকরি হারাবে ভারতের মানুষ। আমাদের রপ্তানি কমে যাবে। আর এই সবকিছুর জন্য দায়ী ভারত সরকারের ব্যর্থ বিদেশনীতি। ‘বন্ধু’ সম্বোধনে ট্রাম্পের হয়ে প্রচার করা নরেন্দ্র মোদিকেই যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।