Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটারদের জমা পড়া নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ পাঁচদিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ কমিশনের

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা কোনও আত্মীয়ের নাম না থাকা ভোটারদের থেকে প্রাপ্ত নথি ইতিমধ্যে আপলোডের কাজ শুরু করেছেন বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও)।

ভোটারদের জমা পড়া নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ পাঁচদিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ কমিশনের
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা কোনও আত্মীয়ের নাম না থাকা ভোটারদের থেকে প্রাপ্ত নথি ইতিমধ্যে আপলোডের কাজ শুরু করেছেন বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও)। সেই নথি খতিয়ে দেখতে হবে ইআরও-দের। এই যাচাইয়ের কাজ পাঁচ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে বলে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। 

Advertisement

ওই নির্দেশিকায় কমিশন আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ভোটার যে জেলার বাসিন্দা, সেই জেলা প্রশাসনের তরফে ইস্যু করা নথি দিলে অসুবিধা নেই। এক জেলার ভোটার যদি অন্য জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত নথি জমা দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে ওই নথি চূড়ান্ত পর্যায়ে যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার ডিইও-কে পাঠাতে হবে। তা যাচাই করে পুনরায় যে জেলায় নথি জমা পড়েছে, সেই জেলার ডিইও-কে ফেরত পাঠাতে হবে। একইভাবে, কোনও ভোটার যদি অন্য কোনও রাজ্য প্রশাসনের ইস্যু করা নথি পেশ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সিইও-কে ওই নথি পাঠাতে হবে। যাচাই করে এ রাজ্যের সিইও-কে ফেরত পাঠাবেন তিনি। অবিলম্বে এই নির্দেশের কপি রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক এবং ইআরও-দের পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
এদিকে, আগামী ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শুনানি পর্ব। তার আগে বুধবার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত হয় মাইক্রো অবজার্ভারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির। একদিনে দু’দফায় এই প্রশিক্ষণের কাজ চলেছে। রাজ্যজুড়ে কর্মরত প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এতে অংশ নিয়েছিলেন। এই মাইক্রো অবজার্ভারদের মূল দায়িত্ব হবে শুনানি পর্বে বিভিন্ন অভিযোগ, তথ্য এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা। যে কারণে এদিন মাইক্রো অবজার্ভারদের শুনানির নিয়ম কী, কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে নথি পরীক্ষা করতে হবে এবং কীভাবে নিরপেক্ষভাবে রিপোর্ট তৈরি করবেন তাঁরা—এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ, মালদহ, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, নদীয়া, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমানের দায়িত্বে থাকা মাইক্রো অবজার্ভাররা। 
অন্যদিকে, বাতিল হওয়া ওবিসি শংসাপত্র শুনানিতে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যে এসআইআরের নথি থেকে বাতিল হওয়া ওবিসি শংসাপত্র বাদ দেওয়ার আর্জি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিল বিজেপি। ওই মামলার প্রেক্ষিতে বুধবার নির্দেশে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কারণ সহ মামলাকারী পক্ষকে জানিয়ে দিতে হবে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পরে দেওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দিয়েছিল। যা নিয়ে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাজ্য একটি সমীক্ষা করে ওবিসি নিয়ে পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তিও জারি করে। নতুন করে রাজ্যের সেই ওবিসি বিজ্ঞপ্তির উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। এবার বাতিল হওয়া শংসাপত্র নিয়ে কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে বলল হাইকোর্ট।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ