


প্রীতেশ বসু, গঙ্গাসাগর: ‘বিজেপির আইটি সেলের তৈরি অ্যাপ ব্যবহার করেই বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।’ এসআইআর নিয়ে এবার এই বিস্ফোরক অভিযোগ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মঙ্গলবার সকালে গঙ্গাসাগর থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন মমতা। এদিন গেরুয়া শিবিরের পাশাপাশি কমিশনকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে তোপ দাগেন তিনি। বলেন, ‘ভুলভাল করছে কমিশন। জীবিতদের মৃত দেখাচ্ছে। বিজেপির আইটি সেলকে দিয়ে যে সব অ্যাপ বানাচ্ছে, সেগুলি অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং অগণতান্ত্রিক। এভাবে চলতে পারে না।’
এর আগে একাধিকবার বিজেপি-কমিশন অশুভ আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সরব হয়েছেন তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে চুপিসারে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে। কিন্তু এদিনই প্রথম তিনি বিজেপির আইটি সেলের তৈরি করে দেওয়া অ্যাপ কমিশনের তরফে ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন। দাবি করলেন, এটাই বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার নেপথ্য কৌশল।
ইতিমধ্যেই ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচি থেকে কমিশনের খাতায় মৃত ভোটার, অথচ বাস্তবে জীবিত ব্যক্তিদের সকলের সামনে নিয়ে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তিনবার চিঠি দিয়ে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতাও। প্রতিবাদ জানিয়েছেন এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে। আর মঙ্গলবার সকালে গঙ্গাসাগর থেকে হেলিকপ্টার ধরার আগে মুখ্যমন্ত্রীর এমন বিস্ফোরক অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের মতো স্বশাসিত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল বলেই মত সব মহলের। জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে বসার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সখ্যের প্রসঙ্গে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সহ প্রতিটি বিরোধী রাজনৈতিক দল। এবার প্রশ্ন উঠল, সেই কারণেই কি ‘গরিমা’ খুইয়ে গেরুয়া শিবিরের পলিটিকাল মাইলেজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য বিজেপির আইটি সেলের তৈরি অ্যাপ ব্যবহার করছে কমিশন? আর এভাবেই চলছে ভোটারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কাজ?
তবে নিশ্চিতভাবে এই ইস্যুতে নজর ঘুরে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের দিকে। কারণ শীর্ষ আদালত আগেই জানিয়েছিল, এতটুকু গলদ বুঝলে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করে দেবে তারা। এই জাতীয় প্রযুক্তি বিহারের ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়েছিল বলে অভিযোগ সামনে এসেছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্যটি ডবল ইঞ্জিন হওয়ায় সেই অভিযোগ দানা বাঁধতে পারেনি। বাংলা ডবল ইঞ্জিন না হওয়ায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র ‘গেরুয়া অপশাসন’ বিরোধিতার কারণে বারবার ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে। কমিশনকেও দফায় দফায় ‘ত্রুটি’ শুধরে পিছু হটতে হচ্ছে। কিন্তু সত্যিই যদি আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তার জল অনেক দূর গড়াবে।