নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলাকে বিঁধতে অস্ত্র মুর্শিদাবাদে সংঘর্ষের ঘটনা! অভিযোগ ছিল, সংঘর্ষের জেরে রাজ্য ছেড়ে পালাচ্ছেন মানুষ। তা নিয়ে মামলা করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল আবেদনকারীকে। সোমবার বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের বেঞ্চে চলছিল শুনানি। আবেদনকারী আইনজীবী শশাঙ্কশেখর ঝা নিজেই সওয়াল করছিলেন। কিন্তু তাঁর আবেদন পড়েই প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সূর্য কান্ত—‘কীসের ভিত্তিতে বলছেন যে এলাকার মানুষ রাজ্য ছাড়া? অভিযোগের ভিত্তি কী? রাজ্যছাড়াদের কোনও তালিকা আপনার কাছে আছে? নেই যখন তখন কেন বলছেন? তাড়াহুড়ো করে মামলা করেছেন বাইরে মিডিয়াকে গিয়ে বলবেন বলে? যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তাদের মামলায় বিবাদী করেননি কেন?’ সর্বোচ্চ আদালতের এহেন তোপের মুখে পড়ে শেষমেশ মামলা প্রত্যাহারই করে নেন আবেদনকারী।
যদিও আদালত ফের নতুন করে সংশোধিত আবেদনের অনুমতি দিয়েছে। মুর্শিদাবাদের ঘটনায় আদালতের নজরদারিতে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তৈরি করে তদন্তের দাবি করেছিলেন আবেদনকারী। সেই আবেদনে আরও অনেক ত্রুটি ছিল। তা দেখে আইনজীবীর যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। বলেন, ‘এভাবে কেউ আবেদন করে? অভিযোগ খতিয়ে না দেখেই মামলা করে ফেলেছেন? পিটিশন কীভাবে লিখতে হয় জানেন? কতদিন ওকালতি করছেন? কত জনস্বার্থ মামলা করেছেন?’ বিচারপতি সূর্য কান্ত আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে যেকোনও নাগরিকেরই আসার অধিকার আছে। কিন্তু তার জন্য যথার্থ প্রক্রিয়া মানবেন, সেটাই কাম্য।’ আদালতের তোপের মুখে পড়ে আমতা আমতা করতে থাকেন আইনজীবী।
মুর্শিদাবাদ ইস্যুতে এদিন আরও একটি মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং সংবিধানের ৩৫৫ অনুচ্ছেদ (রাষ্ট্রপতি শাসন জারির প্রাথমিক ধাপ) প্রয়োগ করার আবেদন জানিয়েছিলেন আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন। সেই মামলাতেও দেশের হবু প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় মামলাকারীকে। কারণ, এই আর্জি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি আইনসভায় পাশ হওয়া বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয় শীর্ষ আদালত। সেই রায়ের কড়া সমালোচনা করেছেন উপ রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকার থেকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে, দীনেশ শর্মারা। প্রত্যেকের ক্ষোভ, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনিক বিষয়েও নাক গলাচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই এদিন বাংলায় ৩৫৫ অনুচ্ছেদ জারির আবেদন শুনে বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের মন্তব্য, ‘একেই তো আমাদের নামে প্রশাসনিক কাজে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠছে। তারই মধ্যে এখন আপনি কি চাইছেন, কেন্দ্রকে কিছু বলি?’ মামলাটি অবশ্য আজ মঙ্গলবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। তবে তার আগেই দ্রুত শুনানির দাবি ‘উল্লেখ’ (মেনশন) করতেই শীর্ষ আদালতের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় আবেদনকারীকে।
জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারর্পাসন মুর্শিদাবাদ ইস্যুতে যে ভূমিকা নিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তার সমালোচনায় সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের তিন সাংসদ দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষ এবং সুস্মিতা দেবের প্রশ্ন, কেন সাদা কাগজে এলাকার মহিলাদের থেকে সই করানো হল? তৃণমূল সূত্রে খবর, ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করা হতে পারে।