নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি মাসের ১৪ তারিখ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ১৭.১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে। তারপর কয়েকদিন গরম যেন ফিরে এসেছিল! আবার ‘কামব্যাক’ হয়েছে শীতের! আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি কম। এখনও পর্যন্ত মরশুমের এটাই শীতলতম। আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, আজ, বুধবারও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এরকম থাকবে। চলতি সপ্তাহে শহরের তাপমাত্রার খুব একটা হেরফের হবে না বলেই জানাচ্ছে তারা।
সোমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি। সেখানে থেকে তাপমাত্রা এক লাফে প্রায় দেড় ডিগ্রি কমে যাওয়ায় শহরবাসী ভালোরকম ঠান্ডা টের পেয়েছে। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭.১ ডিগ্রি। যদিও কলকাতা অর্থাত্ আলিপুরের তাপমাত্রা এতটা কমলেও দমদম ও সল্টলেকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ১৭.২ ও ১৮.৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ছিল এদিন। উলুবেড়িয়া, ক্যানিং ও বারাকপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ১৫.৫, ১৫ ও ১৫.৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ছিল। কেন হঠাত্ ঠান্ডা এতটা বেড়ে গেল? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, উত্তুরে হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সেই কারণে ঠান্ডা ফিরে এসেছে। শীত ফিরে আসায় শহরবাসীর মেজাজও বেশ ফুরফুরে। মঙ্গলবার সকালের অফিসযাত্রী মহলে একটাই চর্চা, ‘ঠান্ডাটা কিন্তু ভালোই পড়েছে এবার!’ জমজমাট শীতের আমেজ মানে সবান্ধবে, সপরিবারে পিকনিকে মেতে ওঠার মরশুম। সোদপুরের বাসিন্দা পার্থ মিত্র বলছিলেন, ‘এবার সত্যিই পিকনিকের টাইম এসে গেল। সবাইকে বলে দিয়েছি দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলতে।’ যাঁরা ঠান্ডা পড়ছে না বলে হাহুতাশ করছিলেন, তাঁরা অবশ্য এদিন বেশ ফ্যাসাদে পড়েছেন। সোনারপুরের সঞ্জয় চৌধুরী যেমন বলছিলেন, ‘ঠান্ডা পড়ছে না দেখে ব্যাগে গরম পোশাক রাখা বন্ধই করে দিয়েছিলাম। আজ বেরিয়ে দেখছি, বেশ ভালোই ঠান্ডা লাগছে। রাতে বাড়ি ফেরার সময় আরও ঠান্ডা লাগবে নিশ্চয়ই।’
বাইক নিয়ে ছুটে বেড়ানো গিগ শ্রমিকদের বক্তব্য, গরমকালে সকালে বা বেলার দিকে কাজ করা যায় না। আর শীতকালে সূর্য ডুবলেই ঠান্ডা লাগে। দক্ষিণ কলকাতার এক গিগ শ্রমিক সুমন্ত রায় বলেন, ‘শহরের মধ্যে বা জনবহুল এলাকা দিয়ে বাইক চালালে তাও ঠান্ডা একটু কম লাগে। কিন্তু একটু ফাঁকা জায়গা দিয়ে কোথাও ডেলিভারি দিতে যেতে হলে হাড়ে কাঁপুনি ধরে যায়।’
শীত শুরু মানে ভিড় জমবে চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, তারামণ্ডল, ভিক্টোরিয়ায়। মঙ্গলবার বিকেলেই তেমন চিত্র ধরা পড়েছে। চিড়িয়াখানা থেকে ময়দান—বাবা-মায়ের হাত ধরে শিশুদের হুটোপুটি নজরে পড়েছে। খুদেদের গায়ে উঠেছে রংবেরংয়ের শীতপোশাক। বুঝিয়ে দিয়েছে, শীত উপভোগে তারা অন্তত এখন থেকেই প্রস্তুত। ঠান্ডা যত বাড়বে, চায়ের তেষ্টাও তত বাড়বে বাঙালির! যাদবপুরের এক চা বিক্রেতা বলছিলেন, ‘ঠান্ডাটা পড়তেই লেবু চায়ের বিক্রি বেড়ে গিয়েছে। একেবারে ধোঁয়া ওঠা চা চাইছেন সবাই।’ এদিকে, ভ্রমণপ্রিয় বাঙালিকে হাতছানি দিচ্ছে শৈলশহর দার্জিলিং। সেখানে বেশ কয়েকদিন হল তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচে রয়েছে। মোমোর দোকানে গরম স্যুপে চুমুক দিতে দিতে দার্জিলিং, কালিম্পংয়ে বেড়াতে যাওয়া নিয়েই জমে উঠছে আড্ডার আসর।