


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তপশিলি জাতি শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের যেন কোনও সমস্যা না-হয়। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ শিডিউল কাস্ট অ্যাডভাইজার কাউন্সিলের সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্দেশ দিয়েছেন। আবেদনকারীর বাবার শংসাপত্র না-থাকলে বংশানুক্রমে রক্তের সম্পর্কিত দুজনের শংসাপত্র দেখাতে বলা হয়। তবে তা অনেক সময়ই সম্ভব হয় না। এই বিষয়টি এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে উত্থাপন করেন একাধিক কাউন্সিলের কিছু সদস্য তথা বিধায়ক। বিষয়টির গুরুত্ব যাচাই করে, রক্তের সম্পর্কিত একজনের শংসাপত্র থাকলেই আবেদনকারীকে তপশিলি জাতি তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে কাউন্সিল সদস্যরা এই সিদ্ধাম্ত অনুযায়ী অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের সচিব সঞ্জয় বনসালকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করার আর্জি জানান। তবে অযোগ্য কেউ যাতে জাতিগত শংসাপত্র না পায় সেই বিষয়েও সতর্ক করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সাংসদ প্রতিমা মন্ডল, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, মমতা ঠাকুর ছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলের সদস্য বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মন্ডল, মিনাখাঁর বিধায়ক উষারানি মন্ডল প্রমুখ। শ্যামল মন্ডল সহ সকলেই এদিন মুখ্যমন্ত্রীর পেশ করা এজেন্ডাকে সমর্থন জানিয়ে নিজেদের বক্তব্য রাখেন। সকলের উত্থাপন করা ইশ্যুগুলি নিয়ে আলোচনা করে সঙ্গে সঙ্গে তার নিষ্পত্তি করেন মমতা। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের যে সাইকেল দেওয়া হয় তা বিতরণের আগে যত্নসহকারে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রের খবর, মমতা ঠাকুরের তরফে মূলত দুটি বিষয় মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। বাগদায় বি আর আম্বেদকরের নামে একটি ইংরেজি স্কুল চালুর জন্য ভবন তৈরি করা হয়েছে। আবেদন জানানো হয়েছে সেখানে দ্রুত পঠনপাঠন চালুর জন্য। দ্বিতীয়ত, মালদহের মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য পাট্টার ব্যবস্থা করারও অনুরোধ রয়েছে। সবকটি বিষয়ই মুখ্যমন্ত্রী খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
দুর্গাপুজোর সময় যাবতীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সাংসদ ও বিধায়কদের সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলা হয়েছে, প্রয়োজনে প্রশাসনকে জানাতে হবে। এছাড়া তপশিলি জাতির মানুষের জন্য তাঁর সরকারের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেছেন মমতা।