নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ভেড়ির দখলদারি নিয়ে উত্তেজনা দেগঙ্গার দোগাছিয়া গ্রামে। সংঘর্ষে ১০ জনের বেশি জমিমালিক জখম হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিরাট পুলিসবাহিনী ও র্যাফ নামানো হয়। এক আক্রান্ত বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পরে আক্রান্তদের পক্ষ থেকে লিজ মালিকদের বিরুদ্ধে দেগঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে। দেগঙ্গা থানার পুলিস জানিয়েছে, আক্রান্তদের অভিযোগের তদন্তে নেমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাড়োয়া বিধানসভার দেগঙ্গা ১ পঞ্চায়েতের দোগাছিয়া গ্রামে প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে ভেড়ি বানিয়ে মাছচাষ হয়। এই জমির মালিক প্রায় ১৮০ জন। ভেড়ির লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছে জমির প্রকৃত মালিকদের সঙ্গে লিজ নেওয়া মালিকদের। জমিমালিকদের অভিযোগ, যাঁরা লিজ নিয়ে ভেড়ি বানিয়েছেন, তাঁরা অত্যন্ত কম দামে লিজ নিচ্ছেন। এই লিজধারীরা সকলেই হাড়োয়ার তৃণমূলের বিধায়ক শেখ রবিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ। দু’পক্ষের এই বিবাদ মেটাতে কয়েকবার বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সুরাহা কিছু হয়নি।
এদিকে, জমি মালিকরা আর কম দামে লিজ দিতে চাইছেন না। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, নতুন করে ভেড়ি নিলাম করতে হবে। এ নিয়েই দু’পক্ষের বিবাদ চলছে। অভিযোগ, এদিন আচমকা জমিমালিকদের উপর চড়াও হন ভেড়ি লিজ নেওয়াদের একাংশ। শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। আক্রান্ত হন জমিমালিক মহম্মদ সাকেল আলি গাজি সহ ১০ জনের বেশি। এই প্রসঙ্গে প্রকৃত জমিমালিক মহম্মদ আশরাফুল আলি গাজি, হজরত আলি বলেন, আমাদের কাছ থেকে জোর করে জমি নিয়ে ভেড়ি করা হয়েছে। লিজের টাকা দেওয়া হয় না। বিধায়কের উস্কানিতেই ওদের এত বাড়বাড়ান্ত। এই প্রসঙ্গে হাড়োয়ার বিধায়ক শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। সমস্যা মেটাতে আমি কয়েকবার বৈঠক করেছি। দ্রুত সমাধান হবে।