নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাস কলকাতায় অস্ত্র নিয়ে দাপাদাপি! মঙ্গলবার ভোরে পর্ণশ্রী থানা এলাকার পারুই দাস পাড়া রোডের এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিবদমান দু’পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হয়। মূলত সাট্টা, বেআইনি অনলাইন লটারির মতো একাধিক অবৈধ কারবারের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে দু’পক্ষের মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, পারুই দাস পাড়া এলাকায় দুষ্কৃতীদের একটি গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করে রাজু বিশ্বাস। অন্য গোষ্ঠীর মাথা প্রীতম দত্ত ওরফে টুবাই। দু’পক্ষই এলাকায় সাট্টা, বেআইনি অনলাইন লটারির ঠেক চালায় বলে অভিযোগ। কার দখলে বেশি সংখ্যক সাট্টার কাউন্টার থাকবে, তা নিয়ে অনেকদিন ধরে লড়াই চলছে। দু’দলই একে অন্যের ঠেক দখল নিচ্ছে বলে অভিযোগ। বিব্রত স্থানীয় বাসিন্দারাও এনিয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশি ধরপাকড় শুরু হলে কয়েকদিন বন্ধ থাকে কারবার। সপ্তাহখানেক যেতে না যেতেই আবার দু’পক্ষ বসে পড়ে সাট্টার প্যাড হাতে নিয়ে। এমনকি, দু’পক্ষই এলাকায় জুয়ার ঠেক চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। এর আগেও তারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষের বেআইনি কারবার দখল করতে গেলে ঝামেলাও বেধেছে ইতিপূর্বে। এই পরিস্থিতিতে কালীপুজোয় এলাকার কয়েকটি জায়গায় জুয়ার বোর্ড বসায় দু’পক্ষই। এক পক্ষ অন্য পক্ষের ‘খদ্দের’ টেনে নিচ্ছে—এই অভিযোগে শুরু হয় ঝামেলা। যার রেশ চলতে থাকে। মঙ্গলবার রাতে দু’পক্ষই মদ্যপ অবস্থায় স্থানীয় একটি পুজো প্যান্ডেলের সামনে হাজির হয়। সেখানেই তাদের মধ্যে গোলমাল শুরু হয়ে যায়। রাজু দলবল নিয়ে অন্য গোষ্ঠীর পান্ডা প্রীতম ও তার সঙ্গীদের মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চলে। খবর পেয়ে প্রীতমের আরও কয়েকজন শাগরেদ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হাজির হয় সেখানে। এরপর দু’পক্ষই প্রকাশ্য রাস্তায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দাপাদাপি শুরু করে বলে অভিযোগ। গুলি চালিয়ে দেওয়ার হুমকি-পাল্টা হুমকি চলতে থাকে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজু ও প্রীতম একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে থানায়। তার ভিত্তিতে দু’পক্ষের তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি তারা।



