Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মহিলা সমবায়ের নামে উল্টোডাঙায় চিটফান্ড! ৮ কোটি হাতানোর প্রাথমিক অভিযোগ, প্রতারিত প্রায় ১০ হাজার

খাস কলকাতায়  কো-অপারেটিভ সোসাইটি খুলে তার আড়ালে চলছিল চিটফান্ডের কারবার। মূলত মহিলারাই ছিল তাদের টার্গেট।

মহিলা সমবায়ের নামে উল্টোডাঙায় চিটফান্ড! ৮ কোটি হাতানোর প্রাথমিক অভিযোগ, প্রতারিত প্রায় ১০ হাজার
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: খাস কলকাতায়  কো-অপারেটিভ সোসাইটি খুলে তার আড়ালে চলছিল চিটফান্ডের কারবার। মূলত মহিলারাই ছিল তাদের টার্গেট। বিপুল পরিমাণ রিটার্ন ও ঋণের টোপ দিয়ে আমানতকারীদের কাছ থেকে চলছিল টাকা সংগ্রহ। কয়েক কোটি  টাকা তোলার পরই রাতারাতি লালবাতি জ্বালে ওই সংস্থা। প্রতারিত হন বিপুল সংখ্যক আমানতকারী। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সংস্থার অ্যাকাউন্ট্যান্টকে গ্রেপ্তার করল ডিরেক্টরেট অব ইকনমিক অফেন্স (ডিইও)। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ভুয়ো এফডি, এমআইএস সহ ব্যাঙ্ক ঋণের নথি।  ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা কো-অপারেটিভ সোসাইটির কর্ণধাররা। 

Advertisement

ডিইও সূত্রে খবর,উল্টোডাঙা এলাকার সিআইটি রোড স্কিমে মহিলা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি নামে অফিস খোলা হয়। বলা হয়, এই সংস্থায় টাকা রাখলে, ব্যাঙ্ক–পোস্ট অফিসের চাইতে কম সময়ে অনেক বেশি সুদ পাওয়া যাবে। ফিক্সড ডিপোজিট মান্থলি ইনভেস্টমেন্ট স্কিম, রেকারিং ডিপোজিটসহ একাধিক  স্কিম রয়েছে। এখানে টাকা জমা রাখলে, আমানতকারীদের ঋণ পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। তথাকথিত এই সংস্থা একাধিক এজেন্ট নিয়োগ করে। সেবি,আরবিআই সহ বিভিন্ন নিয়ামক সংস্থার অনুমতি ছাড়াই  মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মহিলাদের নানা প্রলোভন দিয়ে এজেন্টরা বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলতে শুরু করে। অনেকে সংস্থায় সরাসরি এসে টাকা বিনিয়োগ করেন। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে টাকা ফেরত না পেয়ে, আমানতকারীরা সংস্থায় যোগাযোগ করলে বলা হয়,  কিছু সমস্যার কারণে এখন টাকা তোলা যাবে না। তারপরেও নানা অজুহাতে ঘোরানো হতে থাকে আমানতকারীদের।  ২০২৪ ডিসেম্বরে আচমকাই বন্ধ হয়ে যায় কলকাতা মহিলা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি। প্রতারিত আমানতকারীরা টাকা ফেরত না পেয়ে প্রথমে উল্টোডাঙা থানায় অভিযোগ করেন। চিটফান্ডের কায়দায় কো-অপারেটিভ খুলে প্রতারণা হওয়ায় ডিইওকে তদন্তভার দেওয়া হয়। তারা আলাদা কেস রুজু করে।
তদন্তে নেমে প্রতারিত আমানতকারীদের নামের তালিকা নেওয়া হয়। দেখা যায়, তাঁদের সংখ্যা কুড়ি হাজারের বেশি। বিভিন্ন স্কিমে তাঁরা টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন। তদন্তে উঠে আসে, এরা বাজার থেকে আট কোটি টাকা  তুলেছে। অনুমান করা হচ্ছে, এর পরিমাণ ৫০ কোটিতে ছাড়াবে। এরপরই এই সংস্থার অ্যাকাউন্ট্যান্ট উজ্জ্বল ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার হয় বিভিন্ন নথি।
তদন্তকারীরা বলছেন, আমানতকারীদের টাকা চলে গিয়েছে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সেখান থেকে টাকা আবার অন্যত্র সরানো হয়েছে। সেগুলি কোম্পানির ডিরেক্টরদের অ্যাকাউন্ট বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের আমানতকারী হিসেবে দেখিয়ে ভুয়ো এফডি সার্টিফিকেট তৈরি করা হয়েছে। আমানতকারীদের টাকা দিয়ে ডিরেক্টররা নামে-বেনামে  বিভিন্ন সম্পত্তি কিনেছেন বলে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে সেগুলি ব্লক করা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ