নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: একদিকে একাধিক জনমত সমীক্ষা আভাস দিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতীশ কুমারকে ছাপিয়ে তেজস্বী যাদব এগিয়ে গিয়েছেন। একটি জনমত সমীক্ষা আবার নীতীশ কুমারকে প্রশান্ত কিশোরের থেকেও পিছিয়ে দিয়েছে। যদিও জনমত সমীক্ষা অথবা এক্সিট পোল, কোনওটাই বিগত কয়েক বছরে প্রকৃত ফলাফলের সঙ্গে মেলেনি। কিন্তু ওই জনমত সমীক্ষা নিয়ে চিন্তায় গেরুয়া শিবির। একই সঙ্গে বিহারে বিজেপির কাছে নতুন সমস্যা চিরাগ পাসোয়ান। চিরাগ এনডিএ জোটে থাকলেও তাঁর সঙ্গে নীতীশ কুমারের সম্পর্ক তিক্ত। এখনও পর্যন্ত চিরাগ জাতীয় রাজনীতিতেই সক্রিয়। হঠাৎ তিনি বিহারে ফিরে যাওয়ার কঘা ঘোষণা করেছেন। সোমবারও এক সাক্ষাৎকারে চিরাগ বলেছেন, আমি বিহারেই রাজনীতি করতে ইচ্ছুক। অবশ্যই চাই বিহারের আসন্ন ভোটে প্রার্থী হতে। এনডিএ জোট যদি সম্মিলিতভাবে লড়াই করে তাহলে আমরা ২২৫ আসনের বেশি অনায়াসে পাব। কিন্তু সেজন্য ঐক্যের প্রয়োজন। আর আমার ভূমিকা আগামী দিনে কী হবে, সেটা ঠিক করবে আমার দল। চিরাগের দল লোক জনশক্তি পার্টির (রামবিলাস) কর্ণধার চিরাগ নিজেই। সুতরাং তাঁর দল কী করবে, সেটা আদতে তিনিই ঠিক করবেন। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, ভোটের পর এনডিএ জোট জয়ী হলে চিরাগ উপ মুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করবেন। নীতীশ কুমারের দল দুর্বল হয়েছে বলে চিরাগ একাধিকবার দাবি করেছেন। চিরাগ সোমবার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি এবার বেশি আসনে প্রার্থী দেবেন। লোকসভা ভোটে তাঁর দল পাঁচ আসনে লড়ে পাঁচটিতেই জয়ী হয়েছে। চিরাগ বলেছেন, এরকম স্ট্রাইক রেট আর কোনও দলের নেই। এবারও আমরা যে আসনে প্রার্থী দেব, সেখানেই জয়ী হব। নীতীশ কুমারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিজেপি বিহারে শক্তিশালী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে আগে থেকেই কাঁটা বিছিয়ে রাখতে চাইছেন চিরাগ। অর্থাৎ একা বিজেপিকে ভবিষ্যতে বিহারে প্রধান এবং একচ্ছত্র শক্তি তিনি হতে দিতে চান না। বস্তুত চিরাগ পাসোয়ান আগামী দিনের নীতীশকুমার হতে চাইছেন বলে রাজনৈতিক মহলের জল্পনা। অনগ্রসর ভোট এবার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। সেই অনগ্রসর ভোট ব্যাঙ্কে লোক জনশক্তি পার্টি বড়সড় থাবা বসাতে উদ্যোগী। এই অঙ্কেই চিরাগ রাজ্যকেন্দ্রিক রাজনীতিতে আগ্রহী। তাঁর লক্ষ্য, আগামীদিনের বিহার রাজনীতি যেন হয় তেজস্বী বনাম চিরাগ।



