সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনে (এসআইআর) নাম বাদ বা ট্রাইবুনালে বিচারাধীন থাকলে কেউ সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হবে, এমন রায় আমরা দিইনি।’ শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের এক মামলার শুনানির পর্যবেক্ষণে এমনটাই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে ছিল শুনানি। সেখানে সর্বোচ্চ আদালত ফের এও স্পষ্ট করে দিল, এসআইআরে নাম না থাকা মানে নাগরিকত্ব হারানো নয়। কমিশন সাংবিধানিক সংস্থা হলেও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার অধিকারী নয়। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘বিহার এসআইআর নিয়ে রায় দেওয়ার সময়ই স্পষ্ট করা আছে—স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির স্বার্থে কমিশন নাম বাদ দিতে অথবা জুড়তে পারে। কিন্তু নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে পারে না।’
তাই বাংলার এসআইআরে নাম বাদ বা ট্রাইবুনালে বিচারাধীন নাগরিকরা কেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে, কেন তাঁদের রেশন কার্ডও বাতিল করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে তার জবাব চাইল শীর্ষ আদালত। পাঠানো হল নোটিস। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য কমিশনের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকেরও জবাব চেয়ে নোটিস পাঠানো হল। মামলার পরবর্তী শুনানি দ্রুত দাবি করেন আবেদনকারীর আইনজীবী। যদিও আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শেষে ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৯১ লক্ষ নাম। মৃত ও স্থানান্তরিত ছাড়াও ৩০ লক্ষাধিক ভোটার ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোটদানে বঞ্চিত থেকেছেন। সন্দেহভাজনদের নাম নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের গড়া ১৯টি ট্রাইবুনালে চলছে বিচার। বিচারাধীন নাগরিকদের সিংহভাগের অভিযোগ, কাজ এগচ্ছে শম্বুক গতিতে। তারই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার এসে এসআইআরে নাম না থাকা ব্যক্তিদের সরকারি প্রকল্প থেকেই বাদ দিচ্ছে। সেই মতো জারি হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। তাই বিষয়টির প্রতিবাদের পাশাপাশি সুরাহার সন্ধানে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের এসআইআর কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বসু। এদিন সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি গৃহীত হয়েছে। আবেদনকারীর আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ সওয়ালে বলেন, ‘১৩ এপ্রিল পর্যন্ত আপিল ট্রাইব্যুনালে ৩৪ লক্ষেরও বেশি আবেদন বিচারাধীন। তার মধ্যে মাত্র ৩৮ হাজারের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ নাম যুক্ত হয়েছে। বাকি বাদ। ফলে এটা স্পষ্ট, অন্তর্ভুক্ত নামগুলি ভুলবশত বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা যোগ্য হয়েও ভোট দিতে পারেননি।’
সওয়ালে তিনি আরো বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ না করতে পারার পাশাপাশি এখন এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া নাগরিকদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। রেশন কার্ডও বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। এটা কেন হবে? ট্রাইবুনালে বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়াতে আরও ট্রাইবুনাল তৈরির পাশাপাশি এ ব্যাপারে একটি ওয়েবসাইট খোলার আবেদন করেন তিনি। যাতে বিচারাধীন ব্যক্তিরা জেনে নিতে পারেন, তাঁর মামলার কী পরিস্থিতি। তা শুনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ট্রাইবুনালের বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলব। বাকি এই মামলার যে মূল আবেদন, তা নিয়ে বিবাদীদের জবাব চেয়ে নোটিস পাঠানো হচ্ছে।