Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মার্কিন পণ্যে পাল্টা আরও ৩৪ শতাংশ, শুল্কযুদ্ধের সূচনা চীনের

ইটের বদলে পাটকেল! বুধবার চীনা পণ্যের উপর ৩৪ শতাংশ বাড়তি শুল্ক চাপিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হবে।

মার্কিন পণ্যে পাল্টা আরও ৩৪ শতাংশ, শুল্কযুদ্ধের সূচনা চীনের
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ইটের বদলে পাটকেল! বুধবার চীনা পণ্যের উপর ৩৪ শতাংশ বাড়তি শুল্ক চাপিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হবে। সেই ‘ট্রাম্প ট্যারিফ’ ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাঘাত চীনের। আমেরিকা থেকে আসা সব পণ্যে একইভাবে পাল্টা আরও ৩৪ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা জানাল বেজিং। এবং সেটি চালু হচ্ছে ১০ এপ্রিল থেকেই। ফলে শুক্রবার থেকেই আমেরিকা ও চীনের মধ্যে শুল্কযুদ্ধের সূচনা হয়ে গেল। যদিও ট্রাম্পের সাফ প্রতিক্রিয়া, ‘ওরা ভয় পেয়েছে। ভুল করছে।’ দুই মহাশক্তিধর দেশের সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ময়দান যখন সরগরম, তখন সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে হাসি চওড়া হচ্ছে ভারতের। কারণ, নয়াদিল্লির উপর থেকে এদিন ফের এক শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমানোর কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে ট্রাম্পের প্রথম ঘোষণামতো ২৬ শতাংশই থাকছে ভারতের উপর জারি হওয়া বাড়তি কর। তার উপর আমেরিকা-চীনের বাণিজ্য-যুদ্ধের জেরে নয়াদিল্লির সামনে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে যাওয়ার সম্ভাবনাও চরমে।

Advertisement

এর ব্যাখ্যায় ভারত সরকারের একটি সূত্রে বলা হচ্ছে, বহু পণ্যে বাড়তি কর চেপেছে ঠিকই। কিন্তু পাল্টা শুল্কের এই তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে ভারতের সার, প্লাস্টিক ও পলিমার, খনিজ, কয়লা, অধিকাংশ রাসায়নিক, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, বই ও একঝাঁক ধাতুকে। ফলে এইসব ক্ষেত্রে ভারতীয় বাণিজ্যের লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাছাড়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা চলছে। তা চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও অনুকূল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা।
চীন অবশ্য এক্ষেত্রে নমনীয় না হওয়ার বার্তা দিয়েছে। এদিন চীনা অর্থমন্ত্রক একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে বলেছে, ‘আমেরিকা থেকে আমদানি করা সব পণ্যের উপর চলতি করের পাশাপাশি আরও ৩৪ শতাংশ পাল্টা শুল্ক চাপানো হচ্ছে। এছাড়া চীনের বাণিজ্য মন্ত্রক সাতটি ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিশেষ ধরনের খনিজ উপাদানের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাডোলিনিয়াম (সাধারণত ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিংয়ে ব্যবহার হয়) ও ইট্রিয়াম (কনজিউমার ইলেকট্রনিক্সে কাজে লাগে)। শুধু তাই নয়, পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে আমেরিকার বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লুটিও) নালিশ ঠুকতেও চলেছে বেজিং।
এদিন আমেরিকায় ফার্মাসিউটিক্যাল স্টকগুলির দামে ব্যাপক পতন হয়েছে। কারণ, ট্রাম্পের দেশে ওষুধ ও ফার্মা পণ্যের একটা বড় অংশই আসে বেজিং থেকে। চীনে সেগুলির দামও কম। ট্রাম্প প্রশাসন ৩৪ শতাংশ অতিরিক্ত কর চাপানোয় ওই সব পণ্যের দর খুব বেড়ে যাবে। ফলে এবার তা অন্য জায়গা থেকে আনার কথা ভাবতে হবে মার্কিন সংস্থাগুলিকে। এর অর্থ ভারত থেকে অপেক্ষাকৃত সস্তায় সেগুলি আমদানি করার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। একইভাবে ২৬ শতাংশ ‘ট্রাম্প ট্যারিফে’র তালিকার বাইরে থাকা আরও একঝাঁক পণ্যের বাণিজ্যেও থাকছে লক্ষ্মীলাভের সুযোগ। এই পরিস্থিতিতে আগামী তিন-চার মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ঘরোয়া চাপ ও মুদ্রাস্ফীতির জেরে ট্রাম্প অনেকাংশেই পিছু হটতে বাধ্য হবেন বলেই মত নয়াদিল্লির সরকারি কর্তাদের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ