


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বামফ্রন্টের সঙ্গে সহমতের ভিত্তিতে এই প্রথম সিপিআই (এমএল) লিবারেশন ১০টি কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে চমক। ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই মহিলা। রয়েছেন অধ্যাপক, শ্রমিক নেতা, চা বাগানের শ্রমিক থেকে গবেষক। লিবারেশনের প্রার্থী তালিকায় রয়েছে ‘বাম ঐক্যের ছাপ। এক প্রার্থীর পরিবার এখনো সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত। আবার আরেক প্রার্থীর বাবা ছিলেন সিপিআই বিধায়ক। কারো পরিবার আবার নকশালবাড়ি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রার্থীরা বামপন্থার পুনরুত্থানের স্লোগান তুলে বলছেন, এটাই তো সময়ের দাবি।
ফাঁসিদেওয়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন সুমন্তী এক্কা। তিনি চা বাগানের শ্রমিক। মুর্শিদাবাদের ভরতপুর কেন্দ্রের প্রার্থী জিন্নাতুন নাহার গুলশন বেগমের বাবা রাজা মিঞা একসময় সিপিআইয়ের হয়ে ওই কেন্দ্রেরই বিধায়ক ছিলেন। তিনি মুর্শিদাবাদে মহিলা সংগঠন করেন। কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রের প্রার্থী হয়েছেন মানস ঘোষ। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম স্টাডিজের অধ্যাপক। প্রার্থী তালিকা থেকে নজর কেড়েছেন কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রের লাবনী জঙ্গী। তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে গবেষণা করছেন। বলছিলেন, ‘আমার বড়ো হয়ে ওঠা বামপন্থী পরিমণ্ডলে। ধুবুলিয়াতেই জন্ম। তারপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা। দ্য সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস থেকে গবেষণা করেছি। যেভাবে ফ্যাসিবাদের আস্ফালন বাড়ছে, এই সময়ে দাঁড়িয়ে বামপন্থার পুনরুত্থানের প্রয়োজন।’ তাঁর পরিবার এখনও সক্রিয়ভাবে সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত বলেই খবর। তিনি বলছেন, ‘আমার পরিবার চাইছে বৃহত্তর বাম ঐক্য।’ লাবনী পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পীও। ফলত, তাঁর প্রচারে প্রাধান্য পেতে চলেছে সৃজনশীল পোস্টার-গান। এদিকে, বহরমপুর কেন্দ্রের প্রার্থী আবুল কাশেম শেখ শ্রমিক নেতা। নৈহাটির দেবজ্যোতি মজুমদার আগেও ভোটে লড়েছেন। বজবজ ও ধনেখালি থেকে লড়াই করছেন যথাক্রমে কাজল দত্ত ও রুমা আহেরী। পূর্বস্থলী থেকে জিয়াদুল শেখ। বিষ্ণুপুর থেকে প্রার্থী হয়েছেন তরুণ প্রার্থী তিতাস গুপ্ত। তিতাস সাফাইকর্মীদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।