Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

মোবাইলে মুখ গুঁজে বিপত্তি, দেরিতে কথা বলতে শিখছে ভারতের শিশুরা!

‘ডাক্তারবাবু আমার ছেলেটার চার বছর বয়স। কিন্তু এখনও ঠিক করে কথা বলতে পারছে না।’ সমানে বলে চলেছেন মা। ডাক্তারের চেম্বারে এক বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়ে ঠিক করে বাক্য গঠন করতে পারে না। মাতৃভাষাতেই গুছিয়ে কথা বলতে পারছে না। সম্প্রতি এই ধরনের সমস্যা বড্ড বেশি দেখা যাচ্ছে।

মোবাইলে মুখ গুঁজে বিপত্তি, দেরিতে কথা বলতে শিখছে ভারতের শিশুরা!
  • ২৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ‘ডাক্তারবাবু আমার ছেলেটার চার বছর বয়স। কিন্তু এখনও ঠিক করে কথা বলতে পারছে না।’ সমানে বলে চলেছেন মা। ডাক্তারের চেম্বারে এক বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়ে ঠিক করে বাক্য গঠন করতে পারে না। মাতৃভাষাতেই গুছিয়ে কথা বলতে পারছে না। সম্প্রতি এই ধরনের সমস্যা বড্ড বেশি দেখা যাচ্ছে। এমনই জানাচ্ছেন দেশের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা। এরইমাঝে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম অর্থাৎ মোবাইল, ট্যাব ইত্যাদি ই-গেজেটে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটানোর জেরেই খুদেদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাচ্চা কাঁদছে। খেতে চাইছে না। প্রায়শই হাতে একটা ফোন ধরিয়ে দেন বাবা-মায়েরা। একের পর এক ভিডিয়ো গিলতে থাকে ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা। এতেই সর্বনাশ। গবেষকদের কথায়, শিশুদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার পথে অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম হল ‘সাইলেন্ট এপিডেমিক’। অর্থাৎ নীরবে শেষ করে দিচ্ছে শিশুদের। আর্ট অব কমিউনিকেশন। একটি শিশু তার প্রথম শব্দ বলার আগে নানা ধরনের কাজ করতে থাকে খুদে মস্তিষ্ক। তাই জন্মানোর পর বছর তিনেকের মধ্যে শিশুদের একাধিক স্নায়বিক পরিবর্তন ঘটে। তারা ধীরে ধীরে পরিণত হতে থাকে। ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলে ‘নিউরোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট’। এইসময় সে অন্যের কথার জবাব দিতে শেখে। যা শোনে বারবার তা বলার চেষ্টা করে। নানা ধরনের শব্দ-ইঙ্গিত শিখতে শুরু করে। কিন্তু আজকাল বাচ্চারা দুষ্টুমি করলে, খেতে না চাইলে বা কাঁদলে সাময়িক স্বস্তির জন্য টিভি চালিয়ে দেন কাজে ব্যস্ত অনেক বাবা-মা। হাতে মোবাইল, ট্যাবও ধরিয়ে দেন। শিশু শান্ত হয়ে যায়। তবে অজান্তেই ক্ষতি হয়ে যায়। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সে যদি দীর্ঘক্ষণ ফোন দেখতে থাকে, তাহলে কথা বলা-শেখার প্রবণতা ও সময় কমে যায়। ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে শিশু মস্তিষ্ক। ভাবপ্রকাশের ক্ষেত্রে অনীহা দেখাতে শুরু করে তারা। বিশেষজ্ঞদের কথায়, যদি শিশুরা চোখে চোখ রেখে কথা না বলে, নিজেদের নাম মনে না রাখতে পারে, কম শব্দ বলে বা বেশিরভাগ সময় ইশারা করে তাহলে বুঝতে হবে সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে অবিলম্বে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ