নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতা: শরতের আকাশ, চারদিকজুড়ে সাজোসাজো রব। জমজমাট থিমের লড়াই। কুমোরপাড়ায় তুমুল ব্যস্ততা। মাঝে মধ্যে ভেসে আসা ক্যাপ ফাটানোর শব্দ। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের এগুলি চেনা মুহূর্ত। তবে সব যে কে সেই থাকলেও ফটাস ফটাস শব্দ এখন আর সেভাবে শোনা যায় না। একসময় পাড়ায় পাড়ায় বাচ্চারা প্লাস্টিকের বন্দুকে ক্যাপের রিল ভরে ফাটাত। চলত লড়াই। পুজো প্যান্ডেলে বসে কার বন্দুক কত ভালো তা নিয়ে চলত ঝগড়া। সেসব এখন কেবল স্মৃতি। কারণ বন্দুকের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ প্রায় নেই। পাড়ার দোকানগুলিতে এখন প্রায় অমিল ক্যাপ ফাটানোর বন্দুক। শহর, শহরতলি থেকে গ্রাম, সর্বত্রই কমবেশি একই ছবি। বিক্রি না হওয়ায় অনেক দোকানদার হোলসেল মার্কেট থেকে কিনে আনেন না। আক্ষেপের সুরেই দোকানদাররা বলেন, ‘এখনকার বাচ্চাদের মধ্যে মোবাইল গেম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি বেড়েছে। গত কয়েকবছর হয়ে গেল বন্দুক বিক্রি আর হয় না।’
সাত-দশ বছর আগেও পুজোর আগে মুদির দোকানগুলিতে ক্যাপ ফাটানোর বন্দুকের সারি ঝুলত। ২০ থেকে ৩০ টাকা দাম। সঙ্গে থাকত লায়ন অথবা কয়েল মার্কা ক্যাপ। বিক্রি বেশ ভালোই হতো। রূপম মুখোপাধ্যায় নামে সোনারপুর মোড়ের এক প্রবীণ দোকানদার বলেন, ‘আমার ছেলেরা এইসব ক্যাপ বন্দুক কেনার জন্য কম বায়না করেনি। কিন্তু এখন নাতিরা এসবের দিকে কোনও আগ্রহই দেখায় না। আশপাশেও কাউকে দেখি না বন্দুক নিয়ে খেলছে। আমি নিজেও দোকানে এই বন্দুক তোলা বন্ধ করে দিয়েছি।’ বন্দুক বিক্রি যে কমেছে, তা বলছে বড়বাজারের ব্যবসায়ীরাও। তাঁরা বলেন, আগের থেকে অনেকটাই চাহিদা কমেছে বন্দুকের। কিছু মানুষ এখনও কিনে নিয়ে যান ঠিকই, কিন্তু আজ থেকে কয়েক বছর আগেও যে পরিমাণ বন্দুক বিক্রি হতো, তা এখন হচ্ছে না।’
যুগ পাল্টেছে। বদল আসছে পছন্দে। একসময় যেটা ছিল ট্রেন্ডিং, সেটাই এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। ছোটবেলার দুর্গাপুজোর ক্যাপ ফাটানোর সেইসব মুহূর্ত স্রেফ স্মৃতি হয়েই থেকে যাবে। -নিজস্ব চিত্র