নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এবার স্থায়ীভাবে খুলতে চলেছে বর্ধমানের মিষ্টিহাব। বুধবার জেলাশাসক আয়েশা রানি এ মিষ্টিহাব পরিদর্শন করেন। পরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের এই প্রকল্প খোলা নিয়ে বৈঠকও করেছেন। কয়েকজন মিষ্টি ব্যবসায়ী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও মিষ্টিহাবে স্টল নিয়েছিলেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মিষ্টি ব্যবসায়ীরা কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁরা সেখানে একটি মিষ্টির ল্যাব তৈরির কথা বলেছেন। তাতে মিষ্টি নিয়ে নানান ধরনের পরীক্ষা হবে। খড়্গপুর আইটিটিকে দিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া মিষ্টি প্যাকেজিং এর জন্য একটি ইউনিট তৈরির জন্য বলা হয়েছে।
প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে এই মিষ্টিহাবটি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেটির পরিকাঠামো নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। এক আধিকারিক বলেন, পরিকল্পনায় ভুল ছিল। সেটা এখন প্রমাণিত হয়েছে। তবে, হাল ছাড়া হবে না। আগে শুধু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফরের সময় মিষ্টিহাবে কয়েকজন ব্যবসায়ী স্টল খুলে বসতেন। সফর সেরে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিলে আবার ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যেত। এবার সেরকম হবে না। স্থায়ীভাবে তা খোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে মিষ্টিহাবের পরিকাঠামোগত উন্নত করা হতে পারে। এছাড়া সরকারি বাস যাতে এখানে থামে, তেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মিষ্টিহাবের উপর তলা জনপ্রিয় কোনও সংস্থাকে ভাড়া দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। জেলাশাসক বলেন, মিষ্টিহাব চালুর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কীভাবে সেটি চালু রাখা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
জেলার বাসিন্দারা বলেন, অবস্থানগত কারণেও এই প্রকল্পটি সফল হচ্ছে না। সাধারণত দুর্গাপুর, আসানসোল বা বর্ধমান থেকে কলকাতায় ফেরার সময় অনেকে মিষ্টি কিনে নিয়ে যান। সেক্ষেত্রে মিষ্টিহাবটি রাস্তার উল্টো দিকে কোথাও তৈরি করা হলে সেটা ভালোভাবে চলতে পারত। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের একাংশর অসহযোগিতাকেও অনেকে দায়ি করেছেন। দু’-তিনটি স্টল টানা কয়েক মাস খোলা ছিল। তাঁরা দোকান চালানোর চেষ্টাও করেন। কিন্তু বাকি স্টল মালিকদের সেই আন্তরিকতা দেখা যায়নি। তাঁরা নির্দিষ্ট কয়েকটি দাবিতে অনড় রয়েছেন। বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, সব স্টল চালু থাকলে মিষ্টিহাব এতদিনে জনপ্রিয়তা অর্জন করত। শক্তিগড়ে রাস্তার দু’পাশের দোকানগুলি চালু রয়েছে। তেমনভাবে মিষ্টিহাবও জনপ্রিয়তা পেতে পারত।