Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্যোগের পর পরিস্থিতি সামলাতে ‘অভিভাবকের’ ভূমিকায় মুখ্যমন্ত্রী , একদিনে রেকর্ড সংখ্যক পুজোর উদ্বোধন

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে বুধবার থেকে ছন্দে ফিরছে কলকাতা। আকাশে রোদের দেখা মিলেছে। পুজো প্যান্ডেলগুলিতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন সব বয়সের মানুষজন।

দুর্যোগের পর পরিস্থিতি সামলাতে ‘অভিভাবকের’ ভূমিকায় মুখ্যমন্ত্রী , একদিনে রেকর্ড সংখ্যক পুজোর উদ্বোধন
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে বুধবার থেকে ছন্দে ফিরছে কলকাতা। আকাশে রোদের দেখা মিলেছে। পুজো প্যান্ডেলগুলিতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন সব বয়সের মানুষজন। মা দুর্গার কাছে সকলেরই প্রার্থনা, আর যেন দুর্যোগ পোহাতে না-হয়। পুজোর বাকি কটা দিনে যেন ঝড়বৃষ্টি না-হয়। এই অবস্থায় পুজো উদ্বোধনে গিয়ে অভিভাবকের ভূমিকায় সবদিকের খোঁজ খবর নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিলেন বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। 

Advertisement

এদিন ভবানীপুর ৭০ পল্লি শীতলা মন্দির, একডালিয়া এভারগ্রিন, সিংহী পার্ক, বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন, সমাজসেবী, হিন্দুস্থান পার্ক, ত্রিধারা, মুদিয়ালি, শিবমন্দির, বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, ৬৬ পল্লি, ৬৪ পল্লি, সংঘশ্রী, দক্ষিণ কলকাতা সর্বজনীন, ভবানীপুর মুক্তদল, ৬২ পল্লি, ৭৮ পল্লি, চক্রবেড়িয়া, পেয়ারা বাগান, অবসরসহ ৪০টির বেশি পুজো উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে একদিনে এত সংখ্যক পুজোর উদ্বোধন এক বেনজির দৃষ্টান্ত। 
মঙ্গলবার অতিভারী বৃষ্টিপাতের জেরে জলমগ্ন অবস্থা হয়েছিল কলকাতায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনও ক্ষতি হয়েছে কি না, এলাকার কী অবস্থা, তা বিস্তারিতভাবে পুজো কমিটিগুলির কাছ থেকে খোঁজ খবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজো কমিটিগুলিকে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, বিদ্যুতের তার যাতে যত্রতত্র পড়ে না থাকে, সেদিকে নজর রাখবেন। কোথাও জলের তলায় বিদ্যুতের তার পড়ে আছে কি না, সেদিকে বাড়তি নজর রাখা দরকার। সবাই যাতে সুস্থভাবে প্যান্ডেল ও প্রতিমা দেখতে আসতে পারেন এবং দর্শন করার পর ঠিকমতো বেরিয়ে যেতে পারেন, সেদিকে সবসময় নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার বার্তাও সাধারণ মানুষকে দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি উল্লেখ করেছেন, ড্রেনে প্লাস্টিক যাতে না পড়ে সেদিকে নজর রাখতে হবে। 
কলকাতায় বৃষ্টির জমা জল দ্রুত সরাতে তৎপর ছিল কলকাতা পুরসভা ও রাজ্য প্রশাসন। রাত দুটো পর্যন্ত স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী নজর রেখেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, যেখানে সবথেকে বেশি জল জমেছিল, সেই এলাকাগুলি সাত ঘণ্টার মধ্যে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, জল জমার কারণে ড্রেজিং না-হওয়ার কারণে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, কলকাতা বন্দর, মাইথন, ফারাক্কা ব্যারেজ, পাঞ্চেতে ড্রেজিং হয় না। গত ২০ বছর ধরে ড্রেজিং হচ্ছে না। আমাদের সেটা হস্তান্তর করে দিক আমরা ব্যবস্থা করে নেব। পাশাপাশি মেট্রো তাদের কাজের জন্য সল্টলেক, নিউটাউনের বিভিন্ন এলাকায় ইট, পাথর, বালি ফেলে রাখা অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তবে রাজ্যের সমালোচনা করতে ছাড়ছে না সিপিএম। এদিকে সিপিএম পলিটব্যুরো বিবৃতিতে কলকাতার জলমগ্ন হওয়াকে ফ্লাড (বন্যা) হিসেবে অভিহিতি করেছে। পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি করেছে তারা। কিন্তু ফ্লাড কেন? পলিটব্যুরো সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য বলেন, চরম গাফিলতির জন্যই এত মানুষ মারা গেলেন। জল জমার পরিস্থিতিকেই ওভাবে ব্যাখা করা হয়েছে। শব্দ বড়ো করে না ধরে বিষয়টিকে বড়ো করে ধরা দরকার।
এদিকে একডালিয়া এভারগ্রিন পুজো প্রাঙ্গণে গিয়ে প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে আবেগ বিহ্বল হয়ে পড়েন মমতা। স্মৃতির রোমন্থন করেন তিনি। সুব্রতবাবুর ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন তিনি। সেখানে ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী ছন্দবাণী মুখোপাধ্যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ