নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ‘অনলাইন পণ্য বিপণি সংস্থার ডেলিভারি বয় হিসাবে কাজ করি। ফরাক্কা সহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ডার অনুযায়ী মাল দ্রুত ডেলিভারি দিতে হবে, সেজন্য ফরাক্কার বল্লালপুর এলাকায় থাকার জায়গা খুঁজছি।’ এই বলেই বাড়ি ভাড়া নিত ছত্তিশগড়ের যুবকরা। ভাড়া বাড়িতে উঠেই রীতিমতো কন্ট্রোল রুম খুলে বসত তারা। সেখান থেকেই চলত বেটিং চক্র। নানা কায়দায় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে জুয়া চালাত তারা। কারও যাতে সন্দেহ না হয়, সেজন্য বেশিদিন এক জায়গায় থাকত না তারা। চার মাস আগে ছত্তিশগড়ের দুর্গ জেলা থেকে ফরাক্কায় চলে আসে ধৃত নয় যুবক। প্রথমে ফরাক্কার অন্য একটি জায়গায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে তারা। একই জায়গায় বেশিদিন ঘাঁটি গেড়ে থাকলে ধরা পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাই দুই সপ্তাহ আগে ফরাক্কার বল্লালপুর এলাকায় নতুন আস্তানায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল তারা। সেখানে রীতিমতো ল্যাপটপ, ওয়াইফাই, দামি মোবাইল ফোন দিয়ে কন্ট্রোল রুম বানিয়ে বেটিং অপারেট করত তারা। ফরাক্কায় বসেই ছত্তিশগড়ের পাশাপাশি বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আইপিএল বেটিং চক্রের জাল ছড়িয়ে দিয়েছে তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁর বাড়ি ভাড়া নিয়ে এই গোটা বেটিং চক্রটি চলছিল, তিনি আবার তৃণমূলের কিষান সেলের ব্লক সভাপতি। ওই পলাতক নেতার খোঁজে পুলিস বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। পুলিসের অনুমান, এই বেটিং চক্রের ব্যাপারে ভালোভাবেই জানতেন ওই বাড়ির মালিক। ফরাক্কার বল্লালপুরে ওই তৃণমূল নেতা জেনেশুনেই বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন অভিযুক্তদের। সোমবার সকালে সেখানে হানা দিয়ে পুলিস নয়জন যুবককে গ্রেপ্তার করে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০-১২ দিন আগে মোটা টাকা দিয়ে ওই নেতার বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল অভিযুক্তরা। নয়জনকে গ্রেপ্তার করা ছাড়াও পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে ৩২টি মোবাইল, পাঁচটি ল্যাপটপ এবং প্রচুর পরিমাণে সিম কার্ড সহ একাধিক অনলাইন টাকা ট্রান্সফারের নথি। জঙ্গিপুর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিস নয়জনকে সাতদিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। ফরাক্কার এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ওরা বাড়ি ভাড়া নেওয়ার জন্য নিজেদেরকে ডেলিভারি বয় হিসাবে পরিচয় দিত। সেটা দেখেই বাড়ি ভাড়া পেতে ওদের সুবিধা হতো। চার মাস আগে ফরাক্কায় আসে ওরা। তবে ঘনঘন নিজেদের আস্তানা বদল করত তারা। ওইদিন যেখান থেকে নয়জনকে ধরা হয়েছে, ১০-১২ দিন আগে তারা সেখানে ঘর ভাড়া নিয়েছিল। ধৃতদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলছেন, ওই যুবকরা বাড়ি ভাড়া নিলেও বাড়ি থেকে খুব একটা বের হতো না। সেটা দেখে আমাদের মাঝেমধ্যে সন্দেহ হতো। ডেলিভারি দেওয়ার জন্য যদি বাড়ি ভাড়া নেয়, তাহলে তো নিয়মিত সকালে বেরিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতে হয়। কিন্তু ওদের বাড়ির বাইরে বেরতে একেবারেই দেখা যেত না। মাঝেমধ্যে জিনিসপত্র কিনতে বা খাবার জন্য বাইরে আসলেও কারও সঙ্গে কথা বলত না তারা।