


প্রীতেশ বসু, বোলপুর: আগের দিন নির্বাচন কমিশনের বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)-দের বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, ‘ভোটার লিস্ট থেকে যেন কারও নাম বাদ না যায়। মনে রাখবেন, আপনারা রাজ্য সরকারের জন্য কাজ করেন।’ মঙ্গলবার আপামর রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তাঁর আবেদন, এসআইআর (স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন)-এর পর ভোটার লিস্টে আপনার নাম না দেখলে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করুন বিএলওদের। মুখ্যমন্ত্রীর বলেন, ‘প্রত্যেককে বলছি, ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম তুলবেন। মাথায় রাখতে হবে, বাংলার একজনও যেন বাদ না যায়। কেউ নাম বাদ দিলে প্রতিবাদ করবেন। বিএলওদের চ্যালেঞ্জ করে বলুন, আমি জেনুইন ভোটার, আমার নাম কেন বাদ গেল, জবাব দিন। জানতে চান, এটা আমার সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক অধিকার। তা খর্ব হবে কেন?’ মঙ্গলবার বীরভূমের ইলামবাজারে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এই কথা বলেন।
সুপ্রিম কোর্টে মামলা চললেও বাংলায় এসআইআর শুরু হওয়া যে এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা, তা একপ্রকার নিশ্চিত। কারণ, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ২০০২ সালে এসআইআরের ভিত্তিতে তৈরি ভোটার তালিকা ধাপে ধাপে প্রকাশ করতে শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়াই এরাজ্যে এসআইআর চালুর স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, বিহারে এসআইআর হচ্ছে ২০০৩ সালের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে। এসআইআর চালুর ঠিক আগে এভাবেই সেই তালিকা প্রকাশ করা হয় বিহারে। উদ্বেগের মেঘ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে বাংলার আকাশেও।
বিজেপির ‘বাংলায় দেড় কোটি ভুয়ো ভোটার’ তত্ত্বের বিরুদ্ধে এদিন আরও একবার গর্জে ওঠেন মমতা। মানুষের উদ্দেশে বলেন, ‘মনে আছে তো, অসমে ভোটার লিস্ট থেকে ১৭ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছিল। তার পর তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিয়েছিল। এখানেও ভোটার লিস্টের (এসআইআর) নামে এনআরসি চালুর চক্রান্ত হচ্ছে।’ পরিযায়ী শ্রমিকদের পাকাপাকিভাবে রাজ্যে ফিরে আসার আর্জিও জানিয়েছেন আরও একবার। বিজেপি তথা গেরুয়া শিবির যেভাবে বাংলা ও বাঙালিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে চাইছে, তা রাজ্যের মানুষ কোনওভাবেই মেনে নেবে না বলে মনে করেন প্রত্যয়ী মমতা। তাঁর কথায়, ‘রবীন্দ্রনাথ-নেতাজির এই মাটিতে মানুষ মাথা উঁচু করেই চলে। হাজার চাপ এলেও তারা কখনও মাথা নত করে না।’ এদিকে, হরিয়ানায় বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার ও হেনস্তার একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। তাঁদের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পাঁচ সংসদের একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে তৃণমূল।