Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দশমীতে আউশগ্রামের বারোসতীডাঙায় দুর্গাপ্রতিমার শতাব্দী প্রাচীন ‘কার্নিভাল’

বছরের পর বছর ধরে আউশগ্রামের জঙ্গলমহলের বারোসতীডাঙায় দুর্গাপুজোর ভাসানমেলা ঘিরে বাসিন্দাদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে।

দশমীতে আউশগ্রামের বারোসতীডাঙায় দুর্গাপ্রতিমার শতাব্দী প্রাচীন ‘কার্নিভাল’
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বছরের পর বছর ধরে আউশগ্রামের জঙ্গলমহলের বারোসতীডাঙায় দুর্গাপুজোর ভাসানমেলা ঘিরে বাসিন্দাদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। আউশগ্রামের উত্তর রামনগরের বারোসতীডাঙায় ভাসানমেলাকে এলাকার বাসিন্দারা মিলনমেলা নামেও জানেন। বৃহস্পতিবার দশমীর রাতে আশেপাশের গ্রামগুলির প্রতিমা এসে একসঙ্গে জড়ো হয় বারোসতীডাঙায়। তারপর একে একে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। শেষে সবাই সৌহার্দ্য বিনিময়, মিষ্টিমুখ করান এলাকার বাসিন্দারা। দশমীতে কড়া পুলিশি প্রহরায় কার্নিভাল শেষ হয়। 

Advertisement

আউশগ্রাম-২ ব্লকের  খটনগর গ্রামের ধারে প্রায় ১৪ বিঘা জমি আগে স্থানীয় জমিদারদের ছিল। বর্তমানে তা সরকারি খাসজমি হয়ে গিয়েছে। ওই ফাঁকা জায়গা বারোসতীডাঙা নামেই পরিচিত। প্রায় ২০০ বছর ধরেই দুর্গাপুজোর বিসর্জনের আগে এলাকার সমস্ত প্রতিমা এই বারোসতীডাঙায় প্রথমে নিয়ে আসা হয়। গোপালপুর, উল্লাসপুর, মালিয়ারা, রামনগর, মল্লিকপুর, গোস্বামীখণ্ড, খটনগর এসব গ্রাম থেকে পারিবারিক ও বারোয়ারি প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। আগে বাঁশের মাচায় কাঁধে করে প্রতিমা নিয়ে আসা হতো হ্যাজাগের আলোয়। আর এখন মোটরভ্যানে চাপিয়ে ও রঙিন আলো দিয়ে সাজিয়ে প্রতিমা নিয়ে আসা হয়। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে আনন্দ উচ্ছ্বাস। শোভাযাত্রার মধ্যেও প্রতিযোগিতা চলে। তারপর বিসর্জন সম্পন্ন হয়। এই মিলন মেলা বা কার্নিভালকে ঘিরে বহু মানুষ আসেন আনন্দ উপভোগ করতে।
গোপালপুর উল্লাসপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির পক্ষে রাধামাধব মণ্ডল বলেন,  পূর্ব পুরুষদের কাছে আমাদের শোনা। উত্তর রামনগরের এই জায়গায় অতীতে নাকি সতীদাহ হতো। জনশ্রুতি আছে  এই ডাঙায় ১২ জন সতীকে দাহ করা হয়েছিল। সেই থেকে এই ফাঁকা জায়গাটি বারোসতীরডাঙা নামে পরিচিত। তবে এদিনের মিলনমেলা নিয়ে আউশগ্রাম থানার পুলিশ আগেভাগেই পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। দশমীতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় প্রতিমাগুলি বিসর্জন সম্পন্ন হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ